শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খন্দকার আরিফুল আলম রবিন (৫৫) আর নেই। তিনি ১৬ মে শনিবার ভোররাতে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি….রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি মা, স্ত্রী, দুই পুত্রসহ বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। তিনি প্রয়াত জিপি খন্দকার নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় পুত্র এবং বর্তমান জিপি খন্দকার মাহবুবুল আলম রকীবের ছোটভাই।

শনিবার সকালে মরহুমের লাশ শেরপুর শহরের ওয়্যারলেস মোড় এলাকার বাসায় পৌঁছলে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাকে দেখতে এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দিতে বাসায় ছুটে যান সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনসহ প্রশাসন এবং বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
একইদিন বাদ যোহর তেরাবাজার জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা মাঠে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ, শেরপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান পিপি, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা জাকারিয়া মো. আব্দুল বাতেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, মরহুমের বড়ভাই অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুবুল আলম রকীব, বিএনপি নেতা আবু রায়হান রূপন, হাসানুর রেজা জিয়া প্রমুখ।

পরে মরহুমের কর্মস্থল চন্দ্রকোনা ডিগ্রি কলেজ মাঠে দ্বিতীয় এবং বানেশ্বর্দী খন্দকারবাড়ী এলাকায় তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। এরপর বছর দেড়েক আগে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। তিনি একসময় শেরপুর শহরের সিলিকা কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন এবং তা সুনামের সাথে পরিচালনা করেন। শিক্ষক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে খুবই জনপ্রিয় ও সমাদৃত ছিলেন।




