ছয় মাস না যেতেই আবারও স্লোগানে উত্তাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রাঙ্গণ। গত অক্টোবরে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ নির্বাচনের পর আমিনুল ইসলামের নামেও প্রকম্পিত হয়েছিল মিরপুর। তবে এবার দৃশ্যপট ভিন্ন। আমিনুলের জায়গায় আলোর পুরোভাগে তামিম ইকবাল।

নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্বলতা প্রমাণিত হওয়ায় আমিনুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি), যার প্রধান করা হয়েছে সাবেক অধিনায়ক তামিমকে। স্বাভাবিকভাবে মিরপুরের বিসিবি কার্যালয় ছিল তাঁকে ঘিরে মুখর।
দায়িত্ব পেয়েই বিসিবিতে তামিমসর্বশেষ নির্বাচনে পরিচালক হয়ে সভাপতি পদেও লড়ার ইচ্ছা ছিল তামিমের। যদিও অনিয়মের অভিযোগ এনে আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

অনিয়মের নির্বাচনে জিতে সেই বোর্ডের সভাপতি হয়েছিলেন তামিমের মতোই আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল। গতকাল দুপুর পর্যন্ত সভাপতির চেয়ারেই ছিলেন তিনি। এর আগে পূর্বাচলের মাঠ পরিদর্শনেও যান। এনএসসি তাঁর বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর সেই আসনে বসেন তামিম।
আগামী ৩ মাস অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে আমিনুলের জায়গায় তাঁর কাঁধেই থাকছে দেশের ক্রিকেটের গুরুদায়িত্ব। সন্ধ্যায় বিসিবি কার্যালয়ে তামিমের উপস্থিতিতে পরিচয় পর্ব সারে অ্যাডহক কমিটি। পরিচয় পর্ব শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানান, বিসিবির সুনাম ফেরানোই তাঁদের প্রথম লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘এখানে (বিসিবি) যখনই কেউ দায়িত্ব পান, তখন উন্নয়ন ও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। আমি এবং আমার দল (অ্যাডহক কমিটি) এটা অনুভব করে যে, আমাদের প্রথম কাজ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুনাম ঠিক করা।
গত এক-দেড় বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে, এটা ঠিক করা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।’
সবাইকে নিয়েই সেই কাজটা করতে চান তামিম, ‘গত এক-দেড় বছরে ক্রিকেটের যে ক্ষতি হয়েছে বা ক্রিকেটের সম্মানের ক্ষতি হয়েছে, এই জিনিসটা আমাদের সবাইকে মিলে ঠিক করতে হবে। আমাদের সমালোচনা থাকবে, ভালো কাজ করব, আবার হয়তো করব না। এটা নিয়ে সমালোচনা থাকবে, সবই থাকবে। কিন্তু আমরা এখানে কেউই চাই না ক্রিকেটটা এখন যে জায়গায় নেমেছে, এই জায়গায় থাক। সব সময়ই চাই, ক্রিকেট একটা আমাদের গর্বের ব্যাপার। সুতরাং ওই গর্বের জায়গাটা আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। খেলোয়াড়দের আমাদের সম্মান করতে হবে। প্রত্যেকটা স্টেকহোল্ডারকে সম্মান করতে হবে।’
তিন মাসের মধ্যে নতুন একটি নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অ্যাডহক কমিটিকে। সেটিও মনে করিয়ে দেন তামিম, ‘আমাদের একটি দায়িত্ব দিয়ে আনা হয়েছে যে তিন মাসের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। আমরা যতটা সততার সঙ্গে এবং যতটা দ্রুতভাবে নির্বাচনটা করা যায় সেই চেষ্টা করব। অনেক কাজের মধ্যে বিশ্বকাপ ইস্যুও আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের যেসব কাজ করার দরকার, আমরা তাই করব।’
নতুন নির্বাচনে নিজেদের অংশগ্রহণের ইচ্ছার ব্যাপারটিও উঠে আসে তামিমের কথায়, ‘অবশ্যই, আমরা নির্বাচন করব। এখানে ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করতে হবে। আমার ইচ্ছা থাকতে পারে, আমি করতে পারি। (রফিকুল ইসলাম) বাবু ভাইয়ের ইচ্ছা থাকতে পারে। উনার (তানজিল চৌধুরি) ইচ্ছা না-ও থাকতে পারে। যখন একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, শুধু আমরা না, যাঁরা যাঁরা আগ্রহী, আমি সবাইকে অনুরোধ করব যেন অংশগ্রহণ করেন।’




