শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী গার্মেন্টস কর্মী রুস্তম আলী (৩৩) স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা করাতে না পেরে অভাব-অনটনে দিন কাটছে তাঁর। তাই সুস্থ জীবনে ফিরতে তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পৌরশহরের নিচপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুস্তম দীর্ঘদিন ধরে বাতজ্বরে ভুগছিলেন। চিকিৎসার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে এলেও কয়েক বছর আগে শুরু হয় কোমরের ব্যথা। শুরুতে ওষুধে কমলেও সময়ের সঙ্গে ব্যথা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ব্যথা এতটাই তীব্র হয়েছে যে তিনি হাঁটাচলা পর্যন্ত করতে পারছেন না। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর হিপ জয়েন্টের সকেট নষ্ট হয়ে গেছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে জরুরি অপারেশন প্রয়োজন, যার খরচ প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা।
অর্থাভাবে রুস্তমের চিকিৎসা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি পুরোপুরি শয্যাশায়ী। কোনো কাজ করতে না পারায় সংসারে আয় নেই। বড় ভাই রিকশাচালক নূর ইসলামের সামান্য আয়ে ছয়জনের পরিবারের সংসার চলে। প্রতিদিন রুস্তম ও তাদের মায়ের ওষুধ কিনতেই লাগে অন্তত চারশ টাকা। ফলে তিন বেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রুস্তমের বড় ভাই নূর ইসলাম বলেন, বাড়িতে অসুস্থ মা আর বিছানায় ছোট ভাই। আমার স্ত্রী, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় সদস্যের পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম আমি। রিকশা চালিয়ে পরিবারের খরচই সামলাতে কষ্ট হয়। রুস্তমের চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সবাই যদি একটু সহযোগিতা করেন, তবে আমার ভাই আবার হাঁটতে পারবে।
রুস্তমের মা রুমেছা বেগম বলেন, ছেলেকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে হৃদয় ভেঙে যায়। চিকিৎসা করাতে পারলে সে আগের মতো কাজ করে সংসার সামলাতে পারত। যার সাধ্য আছে, তারা যেন সাহায্যের হাত বাড়ান- এই আশা করি।
অসুস্থ রুস্তম আলী বলেন, রিকশাচালক ভাইয়ের রোজগারের ওপর পুরো পরিবারের খরচ চলছে। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের সহযোগিতা পেলে আমি চিকিৎসা করিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।




