নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক কাফেলা, পত্রদূত, খুলনার দৈনিক পূর্বাঞ্চল, যশোরের কল্যাণ ও ঢাকার বাংলা বাজার পত্রিকার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা প্রতিনিধি হিসেবে এক সময় সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন শহীদুল ইসলাম। জামায়াত শিবিরের হামলায় দু’ মাস যাবৎ বাড়িতে পঙ্গুত্ব নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। নতুন করে হামলার ভয়ে তিনি জামায়াতের কথা মুখে আনতে চান না। যদিও হামলার পরদিন বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে তার উপর জামায়াত শিবিরের হামলার বিষয়টি ফলাও করে ছাপা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক তাকে দেখার জন্য ছুঁটে গিয়েছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

বৃহষ্পতিবার সকাল ৯ টার দিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব নলতা গ্রামের বাড়িতে গেলে ইমান আলীর ছেলে শিক্ষক ও সাংবাদিক শহীদুল ইসলামের দেখা মেলে। ডান পায়ে প্লাষ্টার করা অবস্থায় দ’ুটি ক্রেচ নিয়ে একটি চেয়ারে বসে ছিলেন তিনি। কথা বলতেই দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলেন, গত ১১ নভেম্বর ১৮ দলের ডাকা হরতাল ছিল। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাগরিবের নামাজ পড়তে নলতা মসজিদে যাচ্ছিলেন তিনি। নলতা আহছানিয়া কলেজ মোড়ে পৌঁছানো মাত্র এলাকার জামায়াত শিবিরের চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা তার উপর হকিস্টিক, রাম দা ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে মারাত্মক জখম অবস্থায় সেলিম চেয়ারম্যানের ধান ক্ষেতের মধ্যে চলে গেলে তার উপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ১৩ নভেম্বর এক্সরে করা ও অর্থোপেডিকস এর ডাক্তারের কাছে পরামর্শ করার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ি আবেদন করে এম্বুলেন্স ঠিক করার পরও ১৪ নভেম্বর সকাল ৯টার দিকে জামায়াত শিবিরের ভয়ে এ্যম্বুলেন্স চালক তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর তিনি অন্যভাবে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সামনে ডিজিটাল ল্যাব থেকে এক্সরে করে অর্থপেডিকস ডাক্তার জাহাঙ্গীর হোসেনের পরামর্শ নেন। ডান পায়ের দু’টি স্থানে ও বুকের দু’টি ভেঙে গেছে মর্মে চিকিৎসক তাকে অবহিত করেন। এরপর পায়ে প্লাস্টার করে দু’টি ক্রেচ সম্বল করে পঙ্গুত্ব নিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করতে হচ্ছে তাকে। কাজে যেতে না পারায় মানসিকভাবে বিপন্ন হয়ে পড়েছেন বলে জানালেন তিনি।
শিক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনায় মামলা করার উদ্যোগ নিলেও মোবাইলে অব্যহত হুমকির ভয়ে তিনি থানায় যেতে পারেননি। ঘটনার পর প্রায় দু’ মাস কেটে গেলেও হামলাকারিদের কেউ গ্রেফতার হয়নি। হামলাকারিদের অনেকেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করলে এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটাতে সাহস পাবে না ওই সন্ত্রাসীরা।




