শেরপুরে মাদক সেবনের দায়ে ২ যুবককে ২ বছর করে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পৌর শহরের শেখহাটি মহল্লায় তাদের আটক করে কারাদন্ডসহ ১শ টাকা করে জরিমানা করা হয়। সাজাপ্রাপ্তরা হচ্ছে শেখহাটি মহল্লার আফিল উদ্দিনের ছেলে ফকির বাদশা ও নারায়ণপুর মহল্লার মৃত লোটনের ছেলে তমাল।

জানা যায়, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শেখহাটী মহল্লায় ওই অভিযান চালায়। ওইসময় দণ্ডপ্রাপ্ত ২ জনকে ফকির বাদশার বাড়ির সামনে ব্যুপ্রিনরফিন গ্রহণের সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন কর্মকর্তারা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, যাদের সাধারণ মাদক কাজে লাগে না তারা এসব ব্যবহার করছে। তীব্র ব্যাথা ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় ব্যুপ্রিনরফিন (রাসায়নিক যৌগ) ইনজেকশন। এ ওষুধ মরফিনের চেয়ে ২৫-৫০ গুণ বেশি শক্তিশালী, এটি সাধারণত মরফিন আসক্ত ব্যক্তিদের মরফিন ছাড়তে সাহায্য করে।ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অপিওয়েড নেশাগ্রস্তদের চিকিৎসায় ওষুধটিকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এটি একটি অপিওয়েড শ্রেণির ওষুধ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক তরুণ ও যুবক এখন এই ইনজেকশন নিয়ে নেশা করছে। শেরপুর জনউদ্যোগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই ভয়ংকর নেশা যদি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্ম শেষ হয়ে যাবে। ওই বিষয়ে তিনি প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহবান জানান।

এ ব্যাপারে জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, অপিওয়েড হচ্ছে এক ধরনের ব্যাথানাশক ওষুধ যা মস্তিষ্কের ওপর কাজ করে। নিতে হয় চিকিৎসকের পরামর্শ মতো। তবে এগুলোর অপব্যবহার ও আসক্তিরও ঝুঁকি রয়েছে। কিছু অপিওয়েড যেমন হেরোইন অবৈধভাবে তৈরি করা হয় এবং অপব্যবহারের জন্য বিক্রি করা হয়। যে ২ জনকে ধরা হয়েছে তারা ব্যাপকভাবে আসক্ত। নরফিন নিলে তারা প্রচন্ড ব্যাথা-বেদনা থেকে স্বস্তি পায়। কিন্তু এটি ভয়ংকর নেশা জাতীয় দ্রব্য। তিনি আরও বলেন, ভয়ংকর এই নেশাজাতীয় ওষুধ যুবক ও তরুণরা যাতে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ মাদকসেবীকে ২ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।




