অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, দেশের সাম্প্রতিক কিছু হৃদয়বিদারক ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ২৭ এপ্রিল রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে প্রকাশিত ওই স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ন্যায়বিচারের পথটি হয়তো কিছুটা সময়সাপেক্ষ, কিন্তু সেটিই টেকসই এবং নির্ভরযোগ্য বিচার নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, জুলাই গণআন্দোলনে একজন শহিদের মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাকে পটুয়াখালীর দুমকির নিজ গ্রামে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে। তিনি জানান, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা কারাগারে রয়েছেন। “তাদের জামিনের গুজব ভুল, বলেন তিনি। অভিযুক্তদের ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা গেছে, অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই চার্জশিট দেওয়া হবে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, বিচার শুরু হলে ৯০ দিনের মধ্যেই রায় দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার ফল অনুকূলে এলে তার আগেই বিচার শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মাগুরার আলোচিত আসিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন আসিফ নজরুল। তিনি জানান, মাগুরার ঘটনাটির চার্জশিট পাওয়ার পর গত বুধবার থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট ও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি থাকায় আমরা আশা করেছিলাম—৭ কার্যদিবসের মধ্যেই বিচার শেষ হবে। এখনো সে আশাই করছি। তিনি আরও বলেন, বিচারকাজে যদি দু’একদিন দেরি হয়, আপনাদের কষ্ট হওয়াটা আমি বুঝি। তবে বিচার যদি ঠিকমতো না হয়, তাহলে উচ্চ আদালতে গিয়ে সেই রায় টিকবে না। আর সেটি হলে এর চেয়ে শোচনীয় কিছু হতে পারে না।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তিনি লেখেন, আপনাদের মতো আমিও শোকাচ্ছন্ন। কিন্তু ন্যায়বিচারের জন্য আমাদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হতে পারে। নরপশু ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।




