সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। ৪ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করল এনসিপি। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ২টি ডাবল ডেকার বাসে করে স্মৃতিসৌধে আসেন দলটির নেতা-কর্মীরা। এরপর স্লোগান দিতে দিতে তারা স্মৃতিসৌধের বেদিতে যান এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দলের আহবায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

আখতার হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ শহীদের জীবনের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা এসেছে, তার মূলমন্ত্র ছিল সাম্য ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ। গত ৫৪ বছরে তা অধরা থেকে গেছে। আমরা এনসিপির নেতা-কর্মীরা অঙ্গীকারবদ্ধ, সেই বাংলাদেশ নির্মাণে কাজ করে যাব। এনসিপির সদস্য সচিব আরও বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের অনেকগুলো প্রস্তাবের জায়গা রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাংলাদেশ পুরো বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে; ঢাকা শহরকে গ্লোবাল সাউথের প্রধান হিসেবে দেখা—এমন অনেকগুলো স্বপ্ন নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।’
নতুন সংবিধানের কথা উল্লেখ করে আখতার হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা বিশ্বাস করি, নতুন একটি সংবিধানের বাস্তবতা রয়েছে। এর ভিত্তিতে আমরা গণপরিষদ নির্বাচনের কথা বলেছি। একই সঙ্গে সেই গণপরিষদ নির্বাচনে যারা জয়ী হবেন, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন এমন প্রস্তাবও আমাদের আছে। অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশে জেলা ও উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি কার্যক্রম বিস্তৃত করবে।

শুধু সরকার পরিবর্তন করে প্রকৃত গণতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয় মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নতুন প্রজাতন্ত্র গড়ার জন্য গণপরিষদ নির্বাচন এবং নতুন সংবিধান প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে নাগরিক পার্টি।’
বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ফয়সালা করার আহ্বান জানান নাহিদ। তিনি আরও বলেন, নিবন্ধন নিতে শর্তাবলি পূরণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আগাব। গঠনতন্ত্র প্রণয়নের কাজ চলছে।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাঁরা স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করেন। এরপর সাভার থেকে রায়েরবাজারে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার কবর জিয়ারত করবেন এনসিপির নেতারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বড় জমায়েতের মধ্য দিয়ে এনসিপির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর শনিবার গভীর রাতে ২১৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।




