শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশ পিকনিক স্পটে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক মাদ্রাসাছাত্রী (১৪)। এ ঘটনায় লজ্জায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ধর্ষণের শিকার মাদ্রাসাছাত্রীর মা। ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এর আগে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গজনী অবকাশ কেন্দ্রের একটি পাহাড়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তবে মঙ্গলবার ওই কিশোরীর মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টার পর সেটি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ঝিনাইগাতী উপজেলার কালিনগর এলাকার বাসিন্দা মো. ইলিয়াস (২৫) নামে এক যুবককে প্রধান আসামি ও তার তিন সহযোগী সাইদ (৩০), মতিন (২৮) এবং রাশেদ (২৮)সহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তবে এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালবাসা দিবসে হতদরিদ্র পরিবারের ওই মাদ্রাসাছাত্রী তার ৩-৪ জন বান্ধবীর সঙ্গে ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশকেন্দ্রে বেড়াতে যায়। সেখানে ওই কিশোরীর সঙ্গে পূর্বপরিচিত মো. ইলিয়াসের সাথে দেখা হয়। একপর্যায়ে বখাটে যুবক ইলিয়াস তার ৩ জন সহযোগীর সহায়তায় কিশোরীটিকে অবকাশকেন্দ্রের ভেতরে একটি পাহাড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী পরিবারের হওয়ায় ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং মামলা না করার জন্য ভিকটিমের পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। এরপরও ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেয়েটির মা লোক- লজ্জার ভয়ে বাড়ির পাশে জঙ্গলে গিয়ে বিষপান করেন। পরে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

ওই মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা বুধবার সকালে জানান, বিষপান করে তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল-আমীন বুধবার সকালে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে। এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। এছাড়া ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




