আগাম ইরি-বোরোধানের চারা রোপণে তোড়জোড়

কৃষি, খাদ্য ও শষ্য সমৃদ্ধ অঞ্চল শেরপুরে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কৃষকরা। এজন্য চলতি মৌসুমে তোড়জোড় চলছে আগাম ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণে। তাদের স্বপ্ন এখন ইরি-বোরো আবাদে। কৃষকের ঘুরে দাঁড়ানোর ওই চেষ্টায় ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষি বিভাগও পরামর্শসহ নানা সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গেলে কথা হয় নালিতাবাড়ী উপজেলার সন্যাসিভিটার কৃষক রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, গত বন্যায় আমার সব ফসল খাইয়ে গেছেগা। আমার সব জমি পতিত। তাই আমি আগেভাগেই ধান লাগাইছি। আর একটু জমি বাকি আছে, ওইটুকুও নাগামু। আমার স্বপ্ন এহন এই বোরো আবাদে। এই ফসল মাইর খাইলে বাচার উপায় থাকবো না। ঝিনাইগাতী উপজলোর পাগলারমোড় এলাকার কৃষক সাদা মিয়া মিয়া জানান, গত বছরের মতো বন্যা আমি আর দেহি নাই। আমাগো সব ফসল খাইয়ে গেছে। আমগো সব শেষ কইরা দিছে। কর্জদার কইরা টেহা নিয়াইয়া ওয়া নাগাইতাছি। যেন বাওয়া ধানের ক্ষতিডা পোষাবার পাই।
জানা যায়, সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের ৫টি উপজেলায় ধান চাষের জন্য খুবই উর্বর। ফলে এ জেলা কৃষি ও খাদ্য সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। কিন্তু গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় অধিকাংশ জমিতে আমন ধানের আবাদ সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়ে যায়। তাই এবার বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইরি-বোরো ধানের আবাদের প্রতি নজর কৃষকদের। একদিকে ফাঁকা জমি, অপরদিকে অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় জেলার কৃষকরা এ বছর আগাম ইরি-বোরো ধানের চারা তৈরি ও রোপন কাজ দ্রুত শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেকের বেশি জমিতে বোরোধানের রোপন কাজ শেষ হয়েছে। এটি গত বছরের অগ্রগতির চেয়ে দ্বিগুণেরও অনেক বেশি। এ নিয়ে কৃষকরা ভালো ফলনের প্রত্যাশাও করছেন। এদিকে বোরো আবাদে শতভাগ সফলতা অর্জন করতে নানামুখী পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জেলা কৃষি বিভাগ। নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও মনিটরিং করা, সার সংকট যাতে না হয় এজন্য সার্বক্ষণিক সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সার মজুদ রাখা হচ্ছে। ফলে এবার সার সঙ্কটের কোন সম্ভাবনাও নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় চলতি মওসুমে ৯১ হাজার ৯ শ ৪৯ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার ২শ ৭০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, ৩১ হাজার ৬শ ৫৩ হেক্টর জমিতে উফশী ও ২৬ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হবে। ওই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধানের চারা রোপন শেষ হয়েছে। এ জন্য ৪ হাজার ৯ শ ৩২ হেক্টর জমিতে বোরোধানের বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। আর আবাদের জন্য জেলায় ৩ হাজার ১শ ৪৭ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার, ৬০৭ মেট্রিকটন টিএসপি, ১ হাজার ৬শ ৯৯ মেট্রিকটন ডিএপি ও ১ হাজার ২শ ৮৪ মেট্রিকটন এমওপি সার মজুদ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ওই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা কৃষি বিভাগের।
এ ব্যাপারে শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত বছরের বন্যায় জেলার কৃষকরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারা বোরোধানের আবাদ করে ক্ষতি কাটানোর চেষ্টা করছেন। আমরাও সার্বক্ষণিক কৃষকদের নানা সহযোগিতা দিচ্ছি। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার মজুদসহ বাড়তি প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছি। তার মতে, আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকুলে থাকলে জেলায় এবার বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আর এটি হলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাদের ক্ষতি অনেকটাই পুসিয়ে নিতে পারবেন।




