আ’লীগের প্রার্থীরা এখন মুখোমুখি
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের সুরা সদস্য, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী, তাতীহাটি আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান বাদল। ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে তাতিহাটি আইডিয়াল স্কুলের হলরুমে কর্মীদের নিয়ে এক আলোচনা সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এখন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মুখোমুখি। জামায়াতে ইসলামী ওই প্রার্থী সরে দাঁড়ানো নিয়ে আলোচনা আর সমালোচনা টক অব দা টাউনে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, শেরপুরের শ্রীবরদীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৫ এপ্রিল সোমবার পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৮ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
মনোনয়নপত্র জমাদানকারী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহ উদ্দিন ছালেম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান সুজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম ভাসানী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা খন্দকার মো. ফারুক আহমেদ, সাবেক উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম জুয়েল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো, জুয়েল আকন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমএ মতিন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী নুরুজ্জামান বাদল।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মো. আব্দুর রহিম, মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ হাবিবুল্লাহ, মোঃ হাফিজুর রহমান, মোঃ আলমগীর হোসেন, মো; গোলাম মোস্তফা, মোঃ ফজলুর রহমান, মো. জুবাইদুল ইসলাম, মোঃ সাদমান সৌমিক মুন, ফরিদ আহমেদ নিলু, এবিএম সাইফুল মালেক, জান্নাতুল ইসলাম টুটুল, মো. আজিজুল হক, মোঃ শাহজাহান আলী। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, মোছা. চম্পা, মোছাঃ লিপি বেগম, ফুলমালা ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা বেগম জলি ও জেসমিন আক্তার জেসি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাফ ডজনের ওপরে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মুখোমুখি ছিল জামায়াতে ইসলামীর একক প্রর্থী নুরুজ্জামান বাদল। তিনি ২০১৪ সালে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে অনেকটাই আলোচনায় এসেছিলেন। এবার তিনি সরে দাঁড়ালেন।
রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ অনেকের মতে, বিগত নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাহিদুল ইসলাম জুয়েল। তিনি নির্বাচনের পর থেকে চষে বেড়াচ্ছেন মাঠ। তাছাড়া একই এলাকার জামায়াতের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোতে অনেকটাই আঞ্চলিকতার টান তুলতে পারেন এই প্রার্থী। তবে দলের হাফ ডজন প্রার্থী থাকায় মুখোমুখী হতে হচ্ছে তাকে। কেউ বলছেন, এবারের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে ভৌগলিক অবস্থান। উঠতে পারে আঞ্চলিকতার টান। যে বেশি মাঠ দখল করতে পারবে তার পক্ষে উঠতে পারে গণজোয়ার।
শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা জানান, শ্রীবরদীর কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নে একক প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো, তারিকুল ইসলাম ভাসানী। তার আশেপাশে রয়েছে তিনটি ইউনিয়ন। এতে নেই কোনো প্রার্থী। যদি আঞ্চলিকতার টান ওঠে তাহলে ফ্যক্টর হতে পারে ক্লিন ইমেজের এই প্রার্থীর। কেউ আবার বলছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছালাহ উদ্দিন ছালেম এর অনূকুলে আওয়ামী লীগ ও কয়েকটি অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে নেমেছেন নির্বাচনে। এমন তর্ক-বিতর্ক আলোচনা আর সমালোচনায় টক অব দি টাউনে পরিণত হয়েছে শ্রীবরদী ।
নুরুজ্জামান বাদলের সরে দাঁড়ানো নিয়ে তাতিহাটি আইডিয়াল স্কুলের হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সভাপতি আজহার আলী মিস্টার। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা জামায়ােত ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারী মাওলানা মো. আব্দুল বাতেন, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা মোঃ আবুল কালাম, কর্ম পরিষদের সদস্য মাওলানা মোঃ আব্দুর রহমান, ডা, মো, আনোয়ার হোসেন ও শিবিরের জেলা সেক্রেটারি মোঃ আতিকুল্লাহ প্রমুখ। এ সময় নুরুজ্জামান বাদল বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। সারাদেশেই দলের প্রার্থীরা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। তাই আমিও প্রত্যাহার করবো। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।




