শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় এমদাদুল হক মিলন (৪২) নামে এক ট্রাক ড্রাইভার নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৩ জন। ঘটনাটি ঘটে ১০ এপ্রিল বুধবার রাতে উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ঘাগড়া সরকারপাড়া গ্রামে। নিহত এমদাদুল হক ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান , প্রায় ১ মাস পূর্বে একই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম বেবিনের নেতৃত্বে তার লোকজন এমদাদুল হক মিলনের বাড়ির সামনে সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে এক বনভোজনের আয়োজন করে। ওইসময় এমদাদুল হক অল্প সাউন্ডে সাউন্ড সিস্টেম বাজানোর জন্য অনুরোধ করে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঞ্জুরুল ইসলাম বেবিন তার জমির উপর এমদাদুল হক মিলনের বাড়ির সামনে বেড়া দিয়ে এমদাদুল হকের পরিবারের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বরাজ করছিল। ১০ এপ্রিল বুধবার রাত ৮ টায় এমদাদুল হক মিলন ও তার ছোট ভাই হাসর আলী স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির সামনে ঈদগাহ মাঠের পাশে উৎপেতে বসে থাকা মঞ্জুরুল ইসলাম বেবিনের নেতৃত্বে প্রায় ২৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের উপর আক্রমণ করে। ওইসময় এতে এমদাদুল হক মিলন, ইয়াদাত (৪৪) হাসর আলী ও নীরব আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এমদাদুল হকের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ। বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অন্যান্যরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লাবনী আক্তার বাদী হয়ে ১৫ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা ১০ জনকে আসামি করে বুধবার রাতেই থানায় একটি মামলা দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই রাতেই অভিযান চালিয়ে মঞ্জুরুল ইসলাম বেবিনকে আটক করে থানা পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বছির আহমেদ বাদল বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামি মঞ্জুরুল ইসলাম বেবিনকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপরদিকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ছালাম ও সাদা মিয়া নামে আরও দুইজনকে বিকেলে জেলা সদর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




