তাপস কুমার, আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রাইয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্রীজের অভাবে কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘদিন থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে। উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বামনী গ্রামে খালের উপর এ সাঁকোটি দিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই স্কুল, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষ পারাপার হয়ে থাকে। জানা যায়, এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে ওই এলাকার ঝিকড়া, বামনীগ্রাম, ধনেশ্বর, গোয়ালবাড়ী, বাজেধনেশ্বর, গন্ডগোহালী, মদনডাঙ্গা সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকজনদের উপজেলা সদর ও নওগাঁ জেলার সাথে যোগাযোগের জন্য বাননীগ্রাম খালের উপর এই বাঁশের সাঁকোটি ব্যবহার করতে হয়। এ খেয়াঘাটে একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের। ওই দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের এডিপি ফান্ড থেকে গত ৩ বছরে মাত্র অর্ধেক পরিমাণ খালের মাঝপথে একটি ফুটব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। যা অদ্যাবধি শেষ হয়নি। এদিকে এ ফুটব্রীজটি অপরিকল্পিত ও এত নিচু করে নির্মাণ করা হয়েছে যে, বর্ষাকালে এ ব্রীজের নিচ দিয়ে কোন নৌকা যাতায়াত করতে পারবে না। যেহেতু এ খাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে এলাকার শত শত নৌকা যাতায়াত করে থাকে তাই এলাকাবাসীর দাবী এটি ভেঙ্গে নতুন করে পরিকল্পনা অনুয়ায়ী স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ করা বিশেষ প্রয়োজন। এদিকে এলাকাবাসীর এ দাবিটি অদ্যবধি পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আজও এ সাঁকো দিয়েই হাজার হাজার মানুষ পারাপারের কারনে এটি বার্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ফলে যেকোন সময় এটি ভেঙ্গে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী মনে করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোয়ালবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোয়ালবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়ালেখা করতে যায় এ সাঁকোর উপর দিয়ে। ফলে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকেন। আর এ সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে বর্ষা মৌসুমে। এখানে একটি ব্রীজ নির্মানের দাবির ফলে সরকারের এডিপি ফান্ড থেকে একটি ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন আজও হয়নি। ফলে যে দূর্ভোগ, সে দূর্ভোগই রয়ে গেছে।
কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মন্ডল এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, এখানে একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ করা অতিব জরুরী। এব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিছুটা কাজও হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা সমাপ্ত করা হবে। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিক বলেন, এ সাঁকোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখানে একটি স্থায়ী ব্রীজ হলে এলাকার হাজার হাজার মানুষের পারাপারের সুবিধা হবে। এছাড়াও এলাকার কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করতে পারবে এবং কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে। ব্রীজটি নির্মাণ হলে হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের নতুন দ্বার উম্মোচন হবে।
এ ব্যাপারে আত্রাই উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সাদরুল ইসলাম বলেন, ফান্ড না থাকায় ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শেষ করা যায়নি। ফান্ড পেলে কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।




