পাবনা প্রতিনিধি : উত্তরবঙ্গের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে অভিভাবকহীন। উপাচার্য ছাড়া গত এক মাস ধরে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে চলছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা কার্যক্রম।
এদিকে উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে রবিবার সকালে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সুত্র জানায়, সদ্য বিদায়ী বির্তকিত ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মোজাফফর হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২২ নভেম্বর। তিনি ফিরে গেছেন নিজ কর্মস্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। গত ২৪শে নভেম্বর তিনি সেখানে যোগদান করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগসহ নানা আর্থিক কেলেঙ্কারীর কারণে তাঁকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া প্রায় অনিশ্চত। নতুন কোনো ভাইস-চ্যান্সেলর নিয়োগ না দেয়ায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে হতাশার কথা জানা গেছে। এদিকে ভিসি না থাকায় ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। একাডেমিক ও প্রশাসনিক নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে অসুবিধা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এম আবদুল আলীম বলেন, ‘ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ মোজাফফর হোসেন চলে যাওয়ায় বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে অভিভাবকহীন অবস্থায় চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ডেপুটি রেজিস্ট্রার বিজনকুমার ব্রহ্ম বলেন, যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান না থাকলে কিছুটা অসুবিধা তো হয়ই। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি না থাকার ফলে বেশকিছু অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে।’
পাবিপ্রবিতে বর্তমানে ১৩টি বিভাগ রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। প্রথম দিকে পাবনা শহরের বিভিন্ন স্থানে বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমানে নিজস্ব ক্যাম্পাসে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি ছিলেন প্রফেসর ড. আমিনউদ্দিন মৃধা। তিনি প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ভাইস-চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন প্রফেসর ড. মোঃ মোজাফফর হোসেন। তার নিয়োগের পর থেকেই আর্থিক অনিয়ম লোক নিয়োগে দুর্র্নীতিসহ নানা বির্তকে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তার ২৪ জন আতœীয়সহ ২’শ ৮৪ জনকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে তার পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন হয়।
রোববার উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে সকাল ১১টায় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।




