ads

শনিবার , ২১ ডিসেম্বর ২০১৩ | ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

অবরোধের দোহাই : তানোরে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কালোবাজারে সার ব্যবসা : অসহায় কৃষক

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
ডিসেম্বর ২১, ২০১৩ ৯:১৪ অপরাহ্ণ

Tanore Sar Dijal Basi Photo-02 21.12.2013ইমরান হোসাইন, তানোর (রাজশাহী) : অবরোধের দোহাই দিয়ে রাজশাহীর তানোরে ফের সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে সার। কাঙ্খিত সারের জন্য মাঠে কাজকর্ম ফেলে বিসিআইসি ডিলারের দোকানে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদার সার মিলছে না কৃষকের ভাগ্যে। ২১ ডিসেম্বর শনিবার তানোর সদরে কৃষকের মাঝে সার বিতরণের সময় এমন দৃশ্য দেখা যায়। উপজেলার যুগিশো গ্রাম থেকে তানোর সদরে সার নিতে আশা রায়হান আলী জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এখন টপ ডেসিং দেবার জন্য তার ৪ বস্তা ইউরিয়া, পটাশ ও ডিএপি সার প্রয়োজন। এ কারণে শনিবার কাকডাকা ভোর থেকে ডিলারের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২ বস্তা (৪০ কেজির) ইউরিয়া সার পেয়েছেন। পটাশ (এমওপি) সার এখনও তার ভাগ্যে জোটেনি। এমনই কথা জানিয়ে জিওল গ্রামের দুলাল হোসেন, মোজাহার আলী, মথুরাপুর গ্রামের আকতার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তানোর সদরের বিসিআইসি সার ডিলার প্রণব সাহা শুক্রবার রাতে সাড়ে ৭শ বস্তা ইউরিয়া সার গুদামজাত করার কিছুক্ষণ পর রাতেই অর্ধেক সার খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করেন তিনি। পরের দিন শনিবার সকালে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে তাদেরকে লাইনে দাঁড় করে চাহিদার ৫ থেকে ৬ বস্তার (৪০ কেজি প্রতিবস্তা) স্থলে ২ বস্তা সার দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়। তবে, ডিলারদের ওই একই সার উপজেলার বিভিন্ন মোড়ের অসাধু খুচরা সার ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে ৮শ টাকার ইউরিয়া সার ১ হাজার টাকায় এবং সাড়ে ৭শ টাকার পটাশ সার সাড়ে ৮শ টাকায় বিক্রি করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন কাশিম বাজার এলাকার ক্ষুদ্র সার ব্যবসায়ী আবদুল জলিল, আপেল, ধানতৈড় মোড়ের সার ব্যবসায়ী জসিম, সরণজাই এলাকার কাশেম, মুন্ডুমালা এলাকার নাঈম ট্রের্ডাস, কামারগাঁ এলাকার মৌসুমী ট্রের্ডাসসহ আরো অনেকে। এব্যাপারে স্থানীয় কৃষি অফিসারকে জানানো হলেও তিনি রয়েছেন উদাসিন। একারণে ডিলাররা কৃষকদের জিম্মি করে তাদের খিয়াল-খুশিমত কালো বাজারে সার বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন। ফলে এখানকার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একই অভিযোগ রয়েছে উপজেলার বেশ কয়েকটি বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলারদের বিরুদ্ধে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌর এলাকার সারের দোকান ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম নীতিকে অপেক্ষা করে কিছূ অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ কৃষকদের নিকট হতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তা প্রতি ডিএপি সার ১শ, এমওপি সার ৮০ টাকা এবং ইউরিয়া সার ১শ থেকে ২শ টাকা দাম বেশি নেয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন। সার নিয়ে কালোবাজারি ব্যবসা শুধু এসব এলাকায় নয় পুরো উপজেলাজুড়েই ওই চত্র দেখা গেছে। এ নিয়ে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির নীতি নির্ধারকরা জ্ঞাত হলেও অজ্ঞাত কারণে তারা ব্যবস্থায় নির্বিকার। উপজেলার পাঁচন্দর ইউপি’র পাঁঠাকাটা ও চিমনা গ্রামের আলু চাষি কামরুল, কাশিম, হাবিবুর ও লুৎফর রহমান, চাঁদপুর গ্রামের আবদুল গনি ও দুবইল গ্রামের কৃষক জাইদুর রহমানসহ আরো একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, সপ্তা’র ব্যবধানে আলুতে সার না দেয়া হলে তাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এতে তাদের পুজি হারিয়ে পথে বসতে হবে। সরকার সারের দাম বৃদ্ধি না করলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আবারো বেশি দামে তা বিক্রি করছেন। এতে করে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থানীয় প্রশাসন রয়েছেন উদাসিন। তারা আরও জানান, শুধু আলুর মৌসুম নয় আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে যখন সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় তখন ডিলাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশায় পটাশ ও ডিএপিসহ ইউরিয়া সার ক্ষুদ্র সার ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করে প্রকৃত কৃষকদেরকে সার নেই বলে জানান দেন। বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলাররা গোপন আস্তানায় সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বেশি দামে খুচরা অবৈধ সার ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করছেন। ডিলারদের এধরণের সিন্ডিকেট তৈরির ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের হাত বলে রয়েছে অভিযোগ ভুক্তভোগি মহলের। একারণে প্রান্তিক কৃষকদেরকে ডিলারের কাছে কাঙ্খিত সার পেতে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা অবিলম্বে সার নিয়ে সিন্ডিকেট বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এদিকে তানোর সদরের বিসিআইসি’র সার ডিলার প্রণব সাহা ও তালন্দ বাজারের সার ডিলার বাবুসহ কাশিম বাজার এলাকার বিএডিসির সার ডিলার আকতার আলী জানান, কৃষকের চাহিদার তুলনায় প্রত্যেক সারের বরাদ্দ কম। একারণে কৃষকদের চাহিদা মোতাবেক সার সরবরাহ করা সম্ভব ছিল না বলে বাইরে থেকে সার কিনে একটু বেশি দামে বিক্রি করেছেন তারা। তবে, ডিএপি,  এমওপি (পটাশ) ইউরিয়া সার এখনও সংকট রয়েছে বলে কৃষকদের মাঝে তা সরবরাহ করতে পারছেন না। এছাড়াও হরতাল অবরোধে তারা সময় মত কৃষকদের মাঝে বরাদ্দকৃত সার সরবরাহ করতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। একারণে কৃষকদের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে জানান তারা। এ ব্যাপানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুল কবীর কামালী বলেছেন, অবরোধ হরতাল সারের সংকট সৃষ্টি করেছে। এসব কর্মসূচি শিথিল না হলে সারের সংকট নিরশন করা সম্ভব নয়। তবে, এত সমস্যার মধ্যেও ডিলাররা কৃষকদের চাহিদা পূরণে আন্তরিক থেকে সার সরবরাহ করে আসছে বলে দাবি করেন তিনি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে খতিয়ে দেখবেন। যারা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!