তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রথম নিউজ পোর্টাল ‘শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’ দশম বর্ষে পদার্পণ করছে, এটি একটি আনন্দ সংবাদ। শত প্রতিকূলতা ও ভর্তুকির মধ্য দিয়েও নিউজ পোর্টালটি তার গতি সঞ্চার করে চলেছে। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও আদর্শিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একদল নিবেদিতপ্রাণ প্রতিশ্রুতিশীল কলমসৈনিকের আত্যন্তিক প্রয়াসে ‘শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’ ইতোমধ্যে জাতীয় নিউজ পোর্টালের মর্যাদা লাভ করেছে। অগণিত সংবেদনশীল পাঠকের নিয়মিত দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় ‘শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র প্রতিটি বিভাগে। পোর্টালটিতে সমস্যা, সঙ্কট, হতাশা, অনিয়ম, অনাচারসহ নানা অবাঞ্ছিত সংবাদের পাশাপাশি উন্নয়ন ও সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়।

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলে ভরপুর দেশের ছোট্ট সুন্দর প্রান্তিক জেলা শেরপুর এককালে জামালপুর মহকুমার একটি থানা ছিল। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে জামালপুর মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয় এবং শেরপুর থানা থেকে মহকুমায় উন্নীত হয়। এরপর ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে ৫টি উপজেলা নিয়ে শেরপুর মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয়। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে অনগ্রসরতা, অর্থনীতি এবং যোগাযোগ খাতে পিছিয়ে থাকা এই বিস্তীর্ণ জনাঞ্চলের সাথে জামালপুর জেলার পশ্চিম্ঞ্চল ও সমগ্র কুড়িগ্রাম জেলার জনগণের যোগাযোগ সম্পর্ক রয়েছে। এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন শেরপুর জেলার উপর দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকে। শেরপুর সদর, নকলা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার অগণিত মানুষ শেরপুর জেলা থেকে প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করে থাকে।
একটি পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা পেতে হলে জেলা পর্যায়ের সবগুলো অফিসের স্থাপনা নির্মাণ ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু থাকতে হবে। শেরপুর জেলার বয়স ৩৮ বছর। জেলা হিসেবে শেরপুর এখনো পরিপূর্ণতা লাভ করেনি। একমাত্র সড়ক পথ ব্যতীত যোগাযোগের ক্ষেত্রে আর কোন মাধ্যম নেই। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় রেলপথ থাকলেও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জেলায় রেলপথ নেই। এটা শুধু দুঃখজনকই নয় লজ্জার কারণও বটে। পাশ্ববর্তী জেলা জামালপুরে যেখানে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। সেখানে শেরপুরে কথার ফুলঝুরি ছাড়া দৃশ্যমান কিছুই হচ্ছে না।

নেই বিশ্ববিদ্যালয়, নেই মেডিকেল কলেজ। বেসরকারিভাবে প্রস্তাবিত ‘জিনোম মেডিকেল কলেজ এ্যান্ড হাসপাতাল’ চালুর জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করেও উদ্যোক্তারা অনুমতি পাচ্ছেন না নেতিবাচক নানা কারণে। একটি জেলার এমন বেহাল অবস্থার কথা বহুবার তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু শেরপুর জেলার ভাগ্যবিধাতাদের নীরবতায় কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
শেরপুর পৌর শহরের ভঙ্গুর দশা আর শেরপুর জেলার বেহাল অবস্থা দেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মানুষের উপহাসমূলক মন্তব্য আমাদের লজ্জিত করে না। কারণ উন্নয়ন কাকে বলে সেটাই তো আমরা জানি না। ভূয়া প্রকল্প আর মিথ্যা ভাউচারের কালচার ছাড়া আমরা আর কিছু ভাবতে পারি না। স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব পৌরসভা আমাদের কাম্য। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল অনেক আগে নির্মিত হলেও এখনো চালু করা যায়নি রক্তচক্ষুর কারণে। জেলার জলমহালগুলো প্রভাবশালীরা গিলে খাচ্ছে। খাল বিল নদী নালা সবই আস্তে আস্তে বেহাত হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলে ভরপুর এই শেরপুর জেলা একদা মরু অঞ্চলে পরিণত হবে।
এসব অপ্রিয় সত্য কথাগুলো তুলে ধরার জন্যই মিডিয়ার দরকার। যারা দেশকে ভালোবাসেন, দেশের মানুষকে ভালোবাসেন, যারা দেশ ও জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন চান, তারাই গণমাধ্যমের মতো ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন। পত্রিকা, টেলিভিশন বা নিউজ পোর্টাল বের করার মতো দুঃসাহস সকলের হয় না। ‘শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’ সেই মাপের একটি নিউজ পোর্টাল। এমন একটি চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করার মতো মানসিকতা, ত্যাগ স্বীকারের ধৈর্য ও মনোবল ‘শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’ এর সম্পাদক অনুজ প্রতিম রফিকুল ইসলাম আধারের মধ্যে রয়েছে।
তবে বর্তমানে দুই ধারার সাংবাদিকতা চালু থাকায় সৎ, বস্তুনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকতার বড় অভাব! জাতীয় পর্যায়েই বলুন আর তৃণমূল পর্যায়েই বলুন, এমন সব চরিত্রের ও দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ এ পেশায় চলে এসেছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের মান-সম্মান নিয়ে টিকে থাকাই দায়। আগে সারাদেশে ১০/১২টা দৈনিক পত্রিকা ছিলো। সাংবাদিকতার কী সুনাম ও মর্যাদা ছিলো। সাংবাদিককে মানুষ ফেরেস্তার মতো মনে করতো। আর এখন অধিকাংশ সাংবাদিককে দেখে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়। মুখ ফিরিয়ে নিবে না কেন (?) মনোহারি দোকানদার, তৃতীয় শ্রেণির ঠিকাদার, জমি বেচাকেনার দালাল, দলিল লেখক, টাউট-বাটপাররা এই কাতারে সামিল হয়ে গেছে। দেশে কত হাজার দৈনিক, সাপ্তাহিক, অর্ধসাপ্তাহিক, পাক্ষিক, ষান্মাসিক পত্রিকা রয়েছে তা ক’জনের জানা আছে?
এদের আচার ব্যবহার চালচলন আর ভাবসাব দেখে নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হয়। এদের পত্রিকার নামের বহর দেখেও আপনি হাসি চেপে রাখতে পারবেন না। ১৯৮০’র দশকে ‘কইয়া দিমু’ নামে একটি পত্রিকা বেরিয়েছিলো। এ ধরণের নাম সর্বস্ব পত্রিকা এখনো বেরোচ্ছে। এসব পত্রিকা কারা বের করছে? কারা এতে কাজ করছে? এদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, এদের সংবাদ লেখার ধরণ আপনি চিন্তা করতে পারবেন না। এক সময় ছিলো ফ্যাক্স সাংবাদিকতা, একজনে সংবাদটি লিখতো আর সবাই নাম সেঁটে দিয়ে যার যার পত্রিকায় ফ্যাক্স করে পাঠিয়ে দিতো। তারপর ফটোস্ট্যাট সাংবাদিকতা। আর এখন তো সিসি সাংবাদিকতা। আপনাকে কোন সংবাদের পিছনে দৌড়াতে হবে না, আপনাকে সংবাদ লিখতেও হবে না। সিন্ডিকেটের একজন সংবাদ লিখে সবার পত্রিকায় ইমেইল সিসি মেরে দিলেই হলো। ব্যস, হয়ে গেলো সাংবাদিকতা। আপনি শুধু পকেটে আইডি কার্ডের ক্লিপ লাগিয়ে সর্বমহলে পাঙ মেরে ঘুরবেন। লোকে জানবে আপনি অনেক বড় সাংবাদিক। এটাই তো চলছে। নয় কি? আমাদের প্রচার পাগল তিনারাও কিন্তু এমনটি লুফে নিচ্ছেন। তাদের কাছে এদের কদর বেশি।
কতটুকু শিক্ষা থাকলে, কতবড় জ্ঞানী হলে আপনি সাংবাদিক হতে পারেন। কতটুকু ভদ্র নম্র মার্জিত এবং মানবিক মূল্যবোধের অধিকারী হলে আপনি সাংবাদিক হতে পারেন। আপনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন? আপনার বাসায় ‘সাংবাদিকতার রীতি ও পদ্ধতি’র কোন বই আছে? মানব বিদ্যা, সমাজ বিদ্যা, অপরাধ চর্চা, ফৌজদারী আইন, পুলিশ আইন ও দেওয়ানী আইনের কোন বই আছে? কতটুকু প্রশিক্ষণ আছে আপনার? সমাজকে কলুষমুক্ত করতে, অপরাধমুক্ত করতে এবং সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনি একজন সিপাহসালার- এটা কি আপনি জানেন?
সাংবাদিককে শিক্ষিত, মার্জিত, ভদ্র, নম্র, জ্ঞানী ও চিন্তাশীল হতে হয়। রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি ও সমকালীন হালচাল সম্পর্কেও নখ-দর্পণে ধারণা থাকতে হয়। একজন সাংবাদিককে ইতিহাসের জীবন্ত পাণ্ডুলিপি বলা হয়। সাংবাদিক যা দেখেন, যা শোনেন এবং যে দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেন তার সবটাই ইতিহাসের অংশ। স্থান-কাল-পাত্র ভেদে তার মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। সময়ে তা জনসমক্ষে তুলেও ধরা হয়। ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর, সে কাউতে ক্ষমা করে না। তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, আব্দুস সালাম, জহির চৌধুরী, এবিএম মুছা, নির্মল সেন, আব্দুল গাফফার চৌধুরী, ফজলে লোহানী, বজলুর রহমানসহ সমকালীন অনেক সাংবাদিক জাতির বিবেক হিসেবে সমাদৃত। মফস্বলেও অনেক খ্যাতিমান সাংবাদিকের জন্ম হয়েছে। চারণ সাংবাদিক মুনাজাত উদ্দিন তাদের একজন।
প্রিয় পাঠক, মূল প্রসঙ্গে আসা যাক, তথ্য মন্ত্রণালয়ে সাড়ে সাত হাজার নিউজ পোর্টালের অনুমোদনের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সতর্কতার সাথে এসব আবেদন যাচাই বাছাই করছে। আমরা গর্বিত যে, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রথম নিউজ পোর্টাল ‘শ্যামলবাংলা২৪ডটকম আজ পাঠকপ্রিয়তায়ও ঈর্ষণীয় পর্যায়ে…..। পোর্টালটি তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনিটরিং হয়। স্থানীয় প্রশাসনের উচিৎ বিজ্ঞাপন নীতিমালা অনুসরণ করে ‘শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’কে বিজ্ঞাপন দিয়ে সহযোগিতা করা।
পরিশেষে ‘শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র সম্পাদক ও প্রকাশক বিশিষ্ট আইনজীবী, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও শেরপুর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আধারসহ শ্যামলবাংলা পরিবারকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তাদের এই কর্মপ্রয়াস যাতে অব্যাহত থাকে সেই কামনা করি। পাশাপাশি ধন্যবাদ জনাই সকল সংবাদকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের। ‘শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র জয় হোক।
লেখক: প্রধান সহকারি সম্পাদক, দৈনিক ঢাকা রিপোর্ট এবং সভাপতি, কবি সংঘ বাংলাদেশ।




