চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বাধ্যতামূলকভাবে টাকা আদায় করে সেই টাকায় উপবৃত্তি বিতরণ কাজে নিয়োজিতদের যাতায়াত ও ভূড়িভোজ করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপবৃত্তি বিতরণ করতে যাওয়া ব্যক্তিদের যাতায়াত ও খাওয়া-দাওয়া করানোর জন্য উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিটক থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে উত্তোলন করেছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাবিল উদ্দিন। অভিভাবক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ছাইকোলা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩৫ জন উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা হয়।
সম্প্রতি উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে প্রায় ১০ হাজার টাকা আদায় করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেই টাকায় উপবৃত্তি বিতরণ কাজে নিয়োজিতদের খাওয়া-দাওয়া, যাতায়াত ভাড়া দেয়া হবে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, আমাদের কাছ থেকে স্যাররা (শিক্ষক) বাধ্যতামূলকভাবে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা করে আদায় করেছেন। আদায়কৃত টাকায় উপবৃত্তি বিতরণ কাজে নিয়োজিতদের যাতায়াত ও ভূড়িভোজ করানো ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পকেটস্থ করেছেন। উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায় করা টাকা ফেরৎ দেবার নির্দেশ দিলেও প্রধান শিক্ষক সেই টাকা ফেরৎ দেননি।
উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রশিদমূলে টাকা আদায় করার কথা স্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিল উদ্দিন বলেন, আদায়কৃত টাকা উপবৃত্তি প্রদান কাজে নিয়োজিতদের খাওয়ানো ও যাতায়াত ভাড়া এবং সম্মানী হিসেবে প্রদান করা হবে। এ টাকা উত্তোলনের নিয়ম আছে কিনা সে ব্যাপারে তিনি সঠিক জবাব দিতে পারেনি।
এব্যাপারে স্কুল পরিদচালনা কমিটির সভাপতি আজাহার উদ্দিন মাস্টার জানান, উপবৃত্তি প্রাপ্তদের কাছ থেকে কিভাবে কত টাকা তোলা হয়েছে তা আমি জানিনা। প্রধান শিক্ষক টাকা তোলার বিষয়ে আমাকে কিছুই জানায়নি। অগ্রনী ব্যাংক মির্জাপুর শাখার কর্মকর্তা মাহাবুব হাসান জানান, আমরা উপবৃত্তি এসে কোন স্কুল থেকে কোন সম্মানী গ্রহণ করি না। প্রধান শিক্ষক যা বলেছে তা সঠিক নয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, আমি স্মারক নং-উ মা শি অ/ চাট/সেকায়েপ’উপবৃত্তি ৩৬৯/০৯/২২৯ তাং-৩১/১০/২০১৩ প্রত্যেক স্কুলের প্রধানদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে কোন উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর নিকট থেকে টাকা গ্রহণ করা যাবে না।
ছাইকোলা দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যদি টাকা গ্রহণ করে থাকে তাহলে সেটা অন্যায় করেছে। আমি কোন স্কুল থেকে উপবৃত্তি প্রদান বাবদ কোন সম্মানী গ্রহণ করি না। তিনি তাৎক্ষণিক উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষাথীদের নিকট থেকে আদায় করা টাকা ফেরৎ দেবার নির্দেশ দেন।
উলে¬খ্য, ২০১০ সাল থেকে শিক্ষক হাবিল উদ্দিন ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই থেকে স্কুলটিকে নানা অনিয়ম, দুর্ণীতিতে পরিনত করেছেন।




