আজহারুল হক, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্ত্রীকে শিকলে বেধে এক গৃহবধূকে অমানসিক নির্যাতন চালিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে সোহেল মিয়া নামে পাষন্ড স্বামী। ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের বেলাব গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই দিন রাতেই নির্যাতিত গৃহবধুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় এলাকাবাসী পাষন্ড স্বামীকে আটক করলেও তার সহযোগিরা গ্রাম পুলিশকে মারধর করে তাকে ছিনিয়ে নেয়।
জানা যায়, উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের বেলাব গ্রামের মৃত চাঁন্দু মিয়ার মেয়ে রীমা আক্তার সাবরিনার সাথে ৪ বছর আগে একই গ্রামের ওমর আলী বেপারীর ছেলে সোহেল মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় এক কাঠা জমি ও নগদ ১০ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পর আবার সাবরিনার কাছে সোহেল ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে। এ নিয়ে স্বামী সোহেল, শাশুড়ি শহর বানু ও ননদ কুলসুম বেগম প্রায়ই নির্যাতন চালাত। পরে তাদের দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য সাবরিনা পার্শ্ববর্তী ভালুকা মাস্টারবাড়ি এলাকায় বাদশা টেক্সসটাইলস মিলে চাকুরী নিয়ে প্রতিমাসের বেতনের টাকা সোহেলের হাতে তুলে দেয়। সোহেল সাবরিনার কাছে আরও টাকা এনে দিতে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় চাকুরী থেকে ছাড়িয়ে সাবরিনাকে সোহেল বাড়ি নিয়ে যায়। বুধবার রাতভর চলে সাবরিনার উপর অমানুষিক নির্যাতন। বৃহস্পতিবার সকালে সাবরিনার মাথার চুল ন্যাড়া করে শিকল দিয়ে ঘরের খুটির সাথে বেধে রাখে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এলাকাবাসী পাষন্ড স্বামী সোহেলকে আটক করে গ্রাম পুলিশ কামালের কাছে তুলে দেয়। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় উপজেলার পাগলা থানা পুলিশ সোহেলকে আনতে যাওয়ার পূর্বেই তুষার, তরিকুল ও তিতু মড়লসহ স্থানীয় একটি চক্র গ্রাম পুলিশ কামালের কাছ থেকে সোহেলকে ছিনিয়ে নেয় এবং পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। পরে রাতে পুলিশ নির্যাতিত গৃহবধু সাবরিনাকে উদ্ধার করে পাগলা থানায় নিয়ে যায়। ওই রাতেই সাবরিনা বাদী হয়ে স্বামী শশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ ও আসামী ছিনিয়ে নেওয়ায় তুষার, তরিকুলসহ ৯ জনকে আসামী করে নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করে।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই ঘটনায় পাষন্ড স্বামী সোহেলসহ সহযোগীদের গ্রেফতারে তৎপরতা চলছে।




