সীমিত পরিসরে আসামিদের স্যারেন্ডার গ্রহণে আইনজীবীদের দাবি
করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে শেরপুরে জেলা ও দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আওতায় ভার্চুয়াল শুনানীতে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন পৌণে ৩ শতাধিক আসামি। এর মধ্যে ১২ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১৮ কার্যদিবসে কেবল চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও তার অধিনস্ত আদালতসমূহ থেকেই জামিন পেয়েছেন ২৩১ আসামি। আর প্রায় ৫০ জন আসামি জামিন পেয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে। তবে এখন পর্যন্ত গতবারের ন্যায় ভার্চুয়াল আদালতে আসামিদের স্যারেন্ডার গ্রহণ না করায় স্থানীয় আইনজীবীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
আদালত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে ১২ এপ্রিল থেকে শেরপুরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও তার অধিনস্ত আদালতসমূহে হাজতি আসামিদের ভার্চুয়াল শুনানী গ্রহণ করা হয়। এতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম হুমায়ুন কবীরের আদালতে প্রথম দিনেই ২৩ জনসহ ১৮ কার্যদিবসে মোট ৪৩ জন, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান মাহমুদের আদালতে ১২ জনসহ মোট ৭১ জন, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আলমগীর আল মামুনের আদালতে ১১ জনসহ মোট ১৩ জন, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ ফারিন ফারজানার আদালতে ৪ জনসহ মোট ১৫ জন ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ মুহসিনা হোসেন তুষির আদালতে ২২ জনসহ ৩৫ জন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ মোহাম্মদ আল মামুনের আদালতে ৮ জনসহ মোট ২১ জন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ শরিফুল ইসলাম খানের আদালতে ৯ জনসহ মোট ২৩ জন ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ মেহেদি হাসানের আদালতে ১ জনসহ ১০ জন আসামির জামিন হয়। আর প্রথম দিনে মোট ৯০ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ২৩১ হাজতির জামিন এবং প্রথম দিনে মোট ৫৩ জনসহ এ পর্যন্ত ২৪২ আসামির জামিন নামঞ্জুর হয়।
এদিকে একই সময়ে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আল মামুন, তার ছুটিকালীন সময়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কামাল হোসেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ আখতারুজ্জামানের অধীনে জামিন পেয়েছেন প্রায় ৫০ জন হাজতি আসামি।

শেরপুরের আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল আদালতে এবার সারাদেশের ন্যায় শেরপুরেও কেবল হাজতি আসামিদের শুনানী গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতেও বাদীর শারীরিক উপস্থিতিতে নালিশী মামলা গ্রহণও শুরু হয়েছে। কিন্তু জামিনের ক্ষেত্রে হাজতি আসামি ব্যতীত স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণকারী আসামিদের জন্য গতবারের ন্যায় এবার এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আইনজীবীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। এতে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা ও নতুন মামলায় আসামি হওয়া ব্যক্তিদের ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া লকডাউনের প্রথমার্ধের এক সপ্তাহ পর্যন্ত কোন ভার্চুয়াল শুনানীও গ্রহণ করা হয়নি।
ভার্চুয়াল আদালত প্রসঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার বলেন, ভার্চুয়াল শুনানীতে স্যারেন্ডার ও হাজতি আসামিদের শুনানী নেওয়ার ক্ষেত্রে গত বছর শেরপুরের সিজেএমের নেতৃত্বে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসী সারা দেশে রেকর্ড অর্জন করেছিল। কাজেই গতবারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সীমিত পরিসরে ও যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে হলেও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে ভুক্তভোগী আসামি ও সাধারণ আইনজীবীদের স্বার্থে ভার্চুয়াল আদালতে আসামিদের স্যারেন্ডার গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেসুর রহমান আকন্দ ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম ভাসানী বলেন, করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ থাকায় এবার সারাদেশের মতো শেরপুরেও কেবল হাজতি আসামিদের ভার্চুয়াল শুনানী গ্রহণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আসামিদের আত্মসমর্পণ গ্রহণ না করায় সংশ্লিষ্ট আসামি ও আইনজীবীদের কষ্ট হচ্ছে। তবু পরিস্থিতির কারণেই আমাদেরকে তা মেনে নিতে হচ্ছে। তবে তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, অন্তত: ঈদের আগমুহূর্তে হলেও খণ্ডকালীন সময়ে স্যারেন্ডার আসামিদের ভার্চুয়াল শুনানী গ্রহণ করা হবে।




