ads

বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর ২০১৩ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

হরতাল যখন ভয়তাল : কে নেবে ধ্বংসযজ্ঞের দায়ভার ? -এস.এম আজিজুল হক

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
নভেম্বর ১৪, ২০১৩ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

Azizখুব ভাল কথা। হরতাল একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের একটি রাজনৈতিক ফর্মূলা বললে অনেকের গোস্যা হবে। অনেকে মাইন্ড করবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার নয়- এটি স্রেফ রাজনৈতিক অধিকার। কারন গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় কোথাও মানুষকে কষ্ট দেয়ার কথা বলা হয় নি। গণতন্ত্রের সব কার্যক্রমই গণকল্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যারা রাজনীতি করেন, তারা কম বেশী সবাই গণতন্ত্রেও সংজ্ঞা জানেন এবং বোঝেন। হরতালের নামে বাংলাদেশে বর্তমানে যা চলছে বা যা কিছু ঘটানো হচ্ছে- তা গণতান্ত্রিক কোন অধিকারের মধ্যে পড়ে জানিনে। অথচ জনগনের জিগির তুলে, জনগনের দোহাই দিয়ে, জনকল্যানের মেকী কান্নার আড়ালে জনগণকে জিম্মি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার এক ঘৃন্য পন্থা আমরা দেখতে পাচ্ছি। স্বাধীনতার পর থেকে আজোবধি এদেশের রাজনীতির মাঠে বিএনপি কেন্দ্রিক ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীক কার্যক্রম সবচেয়ে বেশী আলোচিত ও সমালোচিত। এই বড় দু’টি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় ছোট ছোট কিছু স্বার্থান্বেসী ফায়দা লোটার রাজনৈতিক দল বড় ওই দু’টি দলের কাঁধে বন্ধুক রেখে এক হাত নেয়ার মত ঘটনাও ঘটাচ্ছে এদেশে। ক্ষমতাচ্যুতির পর ভোট কারচুপীর অভিযোগ এ দেশের রাজনৈতিক কালচারে পরিনত হয়েছে। ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য এমন কোন শুভ পদক্ষেপ গ্রহণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল। জনগনের জন্য, জনকল্যানের জন্য, কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের জন্য, জাতীয় উন্নয়নের সুনামী বয়ে দেয়ার জন্য তারা সর্বদাই জনভোগান্তিমূলক কর্মসূচি প্রয়োগ করে থাকে। এ সব জনভোগান্তি কর্মসূচির মধ্যে হরতাল অন্যতম। হরতালে দিনমজুরের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, রিক্সাওয়ালা, ঠেলাগাড়ীওয়ালা, কুলি মজুরের রুজির পথরুদ্ধ হয়ে যায়, অসুস্থ্যকে সুস্থ্য করার সড়কে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি হয়ে যায়, দুরের মৃত্যু আত্মিয়ের জানাজা পড়া তথা শেষ দেখার সুযোগটুকু থেকে বঞ্চিত হতে হয়, বাবা মায়ের কষ্টার্জিত পয়সায় অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। গাড়ী পোড়ে, সম্পদ বিনষ্ট হয়, বোমা ফাটে, মনুষ মরে, পিকেটার ও পুলিশী এ্যাকশনে নিরিহ পথচারী আহত হয়,  ক্ষুদ্র দোকানীদের নিত্য রুজীর পাট চুকে যায়- অভূক্ত থাকতে হয় সিংহভাগ জনগোষ্ঠীকে। যে সিংহভাগ জনগোষ্ঠী ভোগান্তির চরম মূল্য দেয়- তাদেরই ভোটে নির্বাচিত নেতাকর্মীরা হরতালের নামে জনভোগান্তির সৃষ্টি করে কথায় কথায়। সুতরাং হরতাল একটি রাজনৈতিক কিংবা গনতান্ত্রিক অধিকার যাই বলি না কেন- তা নি:সন্দেহে জনভোগান্তির অন্যমত নিয়ামক। পিকেটিং, জঙ্গি মিছিল, পুলিশী- তৎপরতা বা সাজ সাজ রব ইত্যাদী বাদ রেখে হরতাল আহবান করে দেখুন না- ফলাফল কি আসে? রাজনৈতিক দলগুলোর সকল ইচ্ছা-অনিচ্ছা, চাওয়া পাওয়া, বক্তব্য-বিবৃতি- জাতি রেডিও-টেলিভিশন তথা ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে সদাসর্বদা অবগত হয়। সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়দায়িত্বটা না হয় জনগনের উপরই ছেড়ে দিয়ে দেখুন। হরতাল আহবান করা যেমন গনতান্ত্রিক অধিকার, ঠিক তেমনই হরতাল বর্জন বা প্রত্যাখান করাও গনতান্ত্রিক অধিকার। গোখরা সাপের বিষ দিয়ে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ তৈরি হয়- একথা সবাই জানে। কিন্তু তাই বলে কেউই গোখরা সাপকে মেনে নেয় না। হরতাল কর্মসূচির মধ্যে হয়তো জাতির কল্যান নিহিত থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে তা আজ কেউই স্বত:স্ফুর্তভাবে মেনে নেয়না। তবুও রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল শেষে বিবৃতি দেয়- জনগন স্বত:স্ফুর্তভাবে হরতালে সারা দিয়েছে, কিংবা আমাদের হরতাল শতভাগ সফল হয়েছে। অনেকটা হুজুরের গল্পের মত। একদা এক হুজুর ধর্মসভায় ওয়াজ করছেন। তাঁর ওয়াজে মানুষ আকৃষ্ট না হয়ে একে একে সবাই চলে গেল। একজন মানুষ বসে থাকা দেখে হুজুর ওয়াজের মধ্যে ওয়াজের সুরে বলতে লাগলো- আমার জলসায় অন্তত: একজন ইমানদার আল্লাহওয়ালা আছেন, যিনি রাত জেগে আমার জিকির আজগর শুনছে। উপস্থিত শেষ ব্যক্তিটি বলে উঠলো ‘জী না হুজুর, আমি আল্লাহওয়ালা নই। আমি মাইকওয়ালা। আপনার ওয়াজ শেষ হলে আমি মাইক খুলে নিয়ে যাব। আর ওই মাইকের জন্য আমি রাত জেগে বসে আছি।’ রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা সম্পর্কে উদাসীন থাকলে একসময় সমর্থক হিসাবে ওই মাইকওয়ালাকেও পাবেন না। কোনটা স্বত:স্ফুর্ত সমর্থন আর কোনটা ভয়ে সমর্থন তা ভোটের সময়ই ফায়সালা হয়ে যায়। শুধুমাত্র গলাবাজী আর বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে জনসমর্থন বা স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহন নিরুপন করা যায় কি? ধর্মসভায় মাইকওয়ালা বসে ছিল ধর্ম কথা শোনার জন্য নয়, তার মাইকের জন্য। ঠিক তেমনি হরতালের দিন বাসওয়ালা বাস বের করেনি বাসের ক্ষতি সাধনের ভয়ে, দোকানদার দোকান খোলেনি তার দোকানের ক্ষতি সাধনের ভয়ে। অথচ এই ভয়তালকে হরতালের শতভাগ সফলতা দাবি করে বলা হয়ে থাকে- জনগন স্বত:স্ফুর্তভাবে হরতালকে সমর্থন করেছে, হরতাল পালন করেছে।
আগেই বলা হয়েছে, হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু এটি মৌলিক অধিকারের পর্যায়ে পড়ে কিনা তা ভেবে দেখা দরকার। কারন যে অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে, তা গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারেনা। তাছাড়া হরতাল কর্মসূচি প্রদানকারী রাজনৈতিক দলকেও ভেবে দেখা দরকার- তাদের প্রদত্ত কর্মসূচি মানুষ ‘হরতাল’ হিসাবে মেনে নিয়েছে নাকি ‘ভয়তাল’ হিসেবে ধিক্কার দিচ্ছে। রাজনৈতিক তাত্বিকতা, রাজনৈতিক কর্মসূচি, রাজনৈতিক এজেন্ডা আধুনিকায়ন হয়েছে সারা বিশ্বে। অথচ বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশে সেই সাবেকী আমলের রাজনৈতিক কর্মসূচী হরতালকে আকড়ে ধরে রাখা হয়েছে ক্ষমতা দখলের এক হাতিয়ার হিসেবে। অধিকার আদায়ের কৌশলগত দিকের আধুনিকায়ন অপরিহার্য্য হওয়া স্বত্বেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ কর্মসূচি হিসেবে হরতালই বিবেচিত হয়ে থাকে সকল দলের কাছে। এ দিক থেকে যারা নিজেদেরকে উন্নত ও আধুিনক চিন্তা-চেতনার ধারক-বাহক রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করে থাকেন, তাদের  এহেন দাবি-দাওয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী প্রদান করে থাকেন। যদি সেই সব রাজনৈতিক দল হরতালের মত সাবেকী কর্মসূচিকে আজকের জামানায়ও প্রধান রাজনৈতিক রণকৌশল হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন- তারা আসলে কি মৌলবাদী রাজনৈতিক দলের গোত্রভূক্ত নয়? শুধুমাত্র ধর্মের কথা বললেই কি মৌলবাদীর লানত কপালে জুটবে? যেহেতু ধর্মীয় ধ্যান-ধারনার আধুনিকায়ন করার তেমন কোন সুযোগ নেই, প্রার্থনা পদ্ধতির রদবদল বা ডিজিটালাইজডও করার কোন ফাক-ফোকর নেই, সেই হেতু এক্ষেত্রে ভাঙ্গা রেকর্ড হলেও ওই পুরানোটাই যে বাজাতে হয়। অথচ হরতাল কোন ধর্মীয় বিধিবিধান বা ঐশি নির্দেশনামাও নয়। সুতরাং দাবি আদায়ের এই পদ্ধতিটি যারা আধুনিকায়ন করার চিন্তা-চেতনা করার কথা ভাবে না- তাদেরকে বা সেই সব রাজনৈতিক দলগুলোকে এক অর্থে মৌলবাদী রাজনৈতিক দল ছাড়া আর কি বলা যেতে পারে ? রাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, এমনকি জমিদারতন্ত্রের এপিঠ-ওপিঠ বিশ্ব দেখেছে-দেখছে। মানুষ কখনও ঝুকছে রাজতন্ত্রের দিকে, কখনও ঝুকছে সমাজতন্ত্রের দিকে। আবার কখনও ঝুকছে গণতন্ত্রের দিকে। পাশাপাশি স্বৈরতন্ত্রের ইতিবাচক-নেতিবাচকের নজিরও রয়েছে পৃথিবীতে। গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে কুখ্যাত হিটলার ক্ষমতায় এসে যদি নাথসী নিধন যজ্ঞ না চালাতো তবে হয়তো আধুনিক জার্মানের জন্ম হতো না। মাও সেতংু যদি তার স্বৈরতন্ত্র না চালাতো তবে হয়তো চীনারা আজো আফিম খেয়ে বুদ হয়ে পরে থাকতো। গনতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় এসে কিম ইল সুং যদি স্বৈরতন্ত্র না চালাতো তবে হয়তো আধুনিক কোরিয়ার মানুষ আজো শুধুমাত্র পেটের ক্ষুধা মিটাতে কুত্তা, বিলাই, সাপ, ইদুর, বাদুর, শিয়াল, ছুচো দিয়ে উদোর পুর্তি করতো। সুতরাং রাষ্ট্রের উন্নয়ন চিন্তা চেতনার আগে রাজনৈতিক কর্মসূচীর উন্নয়ন ও যুগোপযোগী এজেন্ডা প্রনয়ন অপরিহার্য্য। শুধুমাত্র একটি অরগানাইজ ফোর্স নির্ভর রাজনৈতিক দলের ব্যানারে কর্মসূচী দিয়ে আর যাই তাই হোক না কেন- কল্যান রাষ্ট বিনির্মানে এর কোন ইতিবাচক ভূমিকা আশা করা যায় না। হয়তো ওই অর্গানাইজ রাজনৈতিক দলের দেয়া কর্মসূচী সফল হলেও হতে পারে, কিন্তু তাই বলে সার্বিক জনকল্যানে তা কতটুকু সফল হবে তা নতুন করে ভেবে দেখার এখনই সময়। তাছাড়া এটা সময়েরও দাবী। গতকালের কলকি নেড়ে সমকালের গল্প বলবেন- জনগন কি তা মেনে নেবে? নিলেও নিতে পারে। যেহেতু মানুষের চেয়ে অনেক সময় গাধার বুদ্ধিসুদ্ধি বেশী হয় কিনা। রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আদর্শের রামাবলী গায় দিয়ে অরাজনৈতিক কার্যকলাপ এ জাতীকে আর কতদিন দেখতে হবে তা আল্লাহই ভাল জানেন। মসনদে বসলেই- হরতাল হারাম। মসনদচ্যুৎ হলেই হরতাল গনতান্ত্রিক অধিকার। কি বিচিত্র এই মাঠ। একই দল, একই নেতা, একই কর্মী, একই সমর্থক, অথচ এ পারে থাকলে যা হারাম, ওপারে বসলেই তা হালাল। হারাম হালাল, আর বৈধ অবৈধের ঘুটি চালাচালী আর কত দিন? নাকি রাজনৈতিক দলগুলো আমার মত হয়েছে? ‘আমি খ্যাপা কি যে চাই/ তা আমি নিজেই জানিনে’। এ জাতিকে আর কত দিন রাজনৈতিক দলগুলোর ল্যাবরেটরীর গিনিপিগ হয়ে থাকতে হবে। স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে আর কত সম্পদ ধংস হবে, আর কত রক্ত ঝড়বে, আর কত নিরীহ মানুষকে রাজনৈতিক যুপকাষ্ঠের বলি হতে হবে? এ সব প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? কে নেবে এই ধংসযজ্ঞের দায়ভার ?

Shamol Bangla Ads

লেখক : সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও কলাম লেখক।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!