নবীন হাসান, ঠাকুরগাঁও : পরনির্ভরতা নয়। অসহায়ত্বকে পায়ে গুড়িয়ে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আত্ম প্রত্যয়ী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যুবক আব্দুল আজিজ। বাড়িতে স্কুল বসিয়েছেন তিনি। ওই স্কুলে প্রথম শ্রেণীথেকে পঞ্চম শ্রেণী ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা পড়া শেখাচ্ছেন। চোখে না দেখলেও সব বিষয়ের মুখস্থ তার। নিজেই পড়ান শিক্ষার্থীদের। শুধু লেখা লেখীর জন্য কয়েকজন সহকারী রেখেছেন তিনি। তার পাঠশালায় এখন ছাত্রের সংখ্যা ২শ। এই পাঠশালার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফলাফলও ভাল করছে। গতবার পিএসসি ও জেএসসিতে ৩০ জন ছাত্রছাত্রী বৃত্তিসহ জিপিএ-৫ লাভ করে।
জম্মান্ধ ছিলেন না আব্দুল আজিজ। এক চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখেছেন প্রায় ১৮ বছর তিনি। মেধাবী ছাত্র হিসেবে সুনাম ছিল তার। রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে তৃতীয় বর্ষের সম্মান পরীক্ষা দেয়ার সময় তার চিরতরের জন্য অপর চোখের আলো নিভে যায়।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সন্ধ্যারই গ্রামে তার বাড়ি। পঞ্চম শ্রেণী ওঠার আগে তার বাবা মারা যান। মা হালিমা দিন মজুরের কাজ করে সংসার কোন রকমে টিকিয়ে রেখেছেন। আর আব্দুল আজিজ বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ছাত্র পড়ায় লেখা পড়ার খরচ যোগাড় করতেন। ইচ্ছে ছিল লেখা পড়া শিখে চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু ঘাতক ব্যাধি তার সেই ইচ্ছে হতে দেয়নি। চোখের আলো হারিয়ে তিনি এখন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি। তবে তার জীবন সংগ্রাম থেকে থাকেনি। পরিবারের স্বচ্ছলতা অর্জন ও গ্রামীন পিছিয়ে পড়া ছেলে মেয়েদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ২২ জন ছাত্র নিয়ে শুরু করেন একটি পাঠশালা। এর ছাত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এখন ২শ। এখান থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে নিজের ও সহযোগী শিক্ষকদের সম্মানী দেন তিনি। আজিজ জানান, গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য কোন বেতন নেয়া হয়না। তাদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে পাড়লে সার্থক হবে তার জীবন।




