এম. এ করিম মিষ্টার, নীলফামারী : ওভারটাইমের মজুরী প্রদান ও শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের পরচুলা প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান এভারগ্রীন প্রোডাক্ট বিডি লিমিটেডের কারখানার শ্রমিকরা। এসময় শ্রমিকরা বিক্ষুুব্ধ হয়ে উঠলে পুলিশ গিয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করে। ৭ নভেম্বর বৃহষ্পতিবার সকালে কাজে যোগ না দিয়ে ৫ দফা দাবিতে ফ্যাক্টরির গেটের সামনে বিক্ষোভ করে এভারগ্রীন ফ্যাক্টরীর হাই পোস্টিং ইউনিটের শ্রমিকরা। পরবর্তীতে লাঞ্চের (দুপুরের খাবার শেষে) পর শ্রমিকদের দাবির সাথে একাত্ম হয়ে ওই কারখানার অন্যান্য ইউনিটের শ্রমিকরাও বিক্ষোভে যোগ দেয়।
শ্রমিকরা জানায়, সকাল ৭টা ১৫ মিনিট থেকে বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ৮ ঘন্টা শ্রমিকদের কাজের নিয়ম থাকলেও কর্তৃপক্ষ জোর করে চাকরীচ্যুতের ভয় দেখিয়ে ওভারটাইম করিয়ে নেন। ওভারটাইমের বিপরীতে শ্রমিকদের কোন মজুরী দেয়া হয়না বলে অভিযোগ তাদের। শ্রমিকরা আরও জানান, দক্ষ শ্রমিকদের আগে প্রতিমাসে ৪ হাজার ৭শ টাকা দেয়া হলেও কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই বর্তমানে মজুরী কমিয়ে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দেয়া হয়। একইভাবে অদক্ষ শ্রমিকদের ৩ হাজার ১শ ৬৯ টাকা মজুরী দেয়া হলেও বর্তমানে ৩ হাজার ১৯ টাকা দেয়া হয়। কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করে জানান, ওভারটাইমের মজুরী চাওয়ায় গত এক মাসে শতাধিক শ্রমিককে ছাটাই করা হয়েছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় মঙ্গলবার ওই ফ্যাক্টরির প্যাকিং সেকশনের এক নারী শ্রমিককে মারধর করে কারখানা কর্তৃপক্ষের লোকজন। তবে এভারগ্রীনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুব্রত সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বেপজার নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়। ফ্যাক্টরীতে শ্রমিক নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটেনি দাবি করে তিনি বলেন, একটি মহল এ সেক্টরকে অস্থি’তিশীল করার জন্য শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামাচ্ছে।
নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু আক্কাছ আহমেদ জানান, বেতন ভাতার দাবিতে ওই কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ গিয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করে, পরে ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপকের হস্তক্ষেপে আন্দোলনকারীরা শান্ত হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।




