শেরপুরে দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি, পূর্বাভাসনির্ভর কার্যক্রম এবং সময়মতো মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ইএসডিও প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ অক্টোবর রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ মহারশীতে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
সভার শুরুতে PROTISTHAA (Protocols and Trigger-based Institutional Systems for Timely Humanitarian & Anticipatory Action) প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এসময় বক্তারা জেলার দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ হিসেবে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল গঠন ও কার্যকর করার বিষয়ে জোরালো অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়াও আগাম সর্তকবার্তা পদ্ধতিকে আরও গতিশীল ও জনগণের দোরগোড়ায় পৌছানোর জন্য শেরপুর জেলায় ভোগাই ও চেল্লাখালি নদীতে রিভার গেজ পয়েন্ট স্থাপনের সুপারিশ প্রদান করেন।
কর্মশালায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাকিল আহমেদ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজাসহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, ও অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন।
সভার মূল প্রবন্ধে বলা হয়, প্রতিষ্ঠা প্রকল্পটি কেয়ার বাংলাদেশ-এর সার্বিক নেতৃত্বে এবং ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) কর্তৃক এই এলাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। ‘প্রতিষ্ঠা; মূলত: ডিজি-ইকো’র অর্থায়নে পরিচালিত একটি কনসোর্টিয়াম প্রকল্প। এই কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্বে রয়েছে কেয়ার বাংলাদেশ এবং অন্য দুই অংশীদার হলো এসিএফ ও এক্টেড। কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে এর টেকনিক্যাল পার্টনার রাইমস। এক্টেড ক্যাম্প পর্যায়ে ৩৩টি ক্যাম্পে ‘প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের বাস্তবায়নে সরাসরি কাজ করছে। মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন মৌসুমী বন্যা-আকস্মিক বন্যা-ঘূর্ণিঝড়প্রবণ জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে কনসোর্টিয়ামের তিন বাস্তবায়নকারী সংস্থা ইএসডিও, উত্তরণ ও এনএসএস।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো, বিদ্যমান সরকারি ব্যবস্থা ও কাঠামোর সঙ্গে কাজ করে আগাম পদক্ষেপ এর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা, যেন জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বহুমাত্রিক দুর্যোগভিত্তিক আগাম ব্যবস্থাপনা জোরদার করা যায় এবং দুর্যোগ মোকাবিলার মাধ্যমে সময়মতো মানবিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়।




