মোস্তাফিজুল হক, শেরপুর :

বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংবাদিক-লেখক ফাউন্ডেশনের কার্যকরী সভাপতি বিশিষ্ট কবি, সম্পাদক ও সংগঠক চৌধুরী নূরুল হুদা’র জন্মদিন আজ (১ জানুয়ারি)। তিনি ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার কার্তিকখিলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন নিজগ্রামের সরকারি কার্তিকখিলা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই। তাঁর পিতা মরহুম এ এস এম শামছুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা। মাতা সুগৃহিনী মরহুমা হুর আক্তার খাতুন।
কবি নূরুল হুদা কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ থেকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে স্নাতক সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে ঢাকায় চাচার সাহচর্যে চলে আসেন। কবির চাচা এস জামান চৌধুরীও একজন লেখক এবং নিজেকে প্রকাশনাকর্মে গভীরভাবে আত্মনিবেদিত রাখেন। চাচা কর্তৃক ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে সরকারি নিবন্ধিত মাসিক চিন্ময় নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ হয়। চৌধুরী নূরুল হুদা সে বছর উক্ত মাসিক ‘চিন্ময়’ পত্রিকার সম্পাদকীয় কর্মজীবনের পাশাপাশি লেখালেখি শুরু করেন। তিনি চিন্ময়ের সম্পাদনাকর্মে দীর্ঘ সাতবছর নিয়োজিত ছিলেন। দীর্ঘসময় ধরে ঢাকাস্থ বিভিন্ন সাহিত্যসাময়িকীতে তাঁর কবিতা ও ফিচার প্রকাশিত হয়। এছাড়াও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবেও তিনি বেশ জনপ্রিয়। চৌধুরী নুরুল হুদা একাধারে ‘কবি-লেখক কল্যাণ ফাউন্ডেশন’, ‘মনিরউদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পরিষদ’-এর সভাপতির দায়িত্বসহ ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাহিত্য পরিষদ’ এবং ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ লেখক-সাংবাদিক ফাউন্ডেশন’-এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বেশ কয়েকটি গবেষণাধর্মী সংগঠনের সংগঠক হিসেবেও মেধাভিত্তিক কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর কবিতা বাংলাদেশের প্রায় সকল জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর সম্পদনায় তিনটি সংকলন প্রকাশিত হচ্ছে। যেমন: কবি লেখক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মুখপত্র ‘সাহিত্যপত্র’ প্রথম সংখ্যা প্রকাশ পায় সেপ্টেম্বর ২০২১, মনিরউদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পরিষদের মুখপত্র ‘অন্বীক্ষণ’ ২০২০ সেপ্টেম্বর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর দ্বিতীয় সংখ্যা মে ২০২২ প্রকাশ করেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ লেখক সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের মুখপত্র ‘ফুলেশ্বরী’ প্রথম সংখ্যা মার্চ ২০২১ এবং দ্বিতীয় সংখ্যা ডিসেম্বর ২০২১ প্রকাশ করেছেন। চৌধুরী নূরুল হুদার গ্রন্থসমূহ: ‘ভ্রমর আলাপে ফোটে গোলাপকলি’, ‘স্বপ্নশিশির ঝরে’, ‘সম্পর্ক থাকুন’ (কাব্যগ্রন্থ), কবিতার উঠোন’ (যৌথগ্রন্থ)।

চৌধুরী নূরুল হুদা-র কবিতায় যেমন স্বদেশ ও নিসর্গপ্রেম আছে, তেমনি রোমান্টিক কবিতায় ফুটে ওঠে বিরহপ্রতীক্ষার গভীর প্রতিচ্ছবি। তাঁর অসংখ্য কবিতায় প্রকৃতি ও মানুষের হৃদয়ের হাহাকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
দেশাত্মবোধক কবিতায় যেমন তিনি ‘লাল-সবুজের পতাকা’ আর ‘মাটির ঘ্রাণ’কে উপজীব্য করেছেন, তেমনি মানুষের নৈতিক অবক্ষয়কেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। প্রেমবিরহের কবিতাকে কবি প্রকৃতির নানান অনুষঙ্গে, ফুলের স্নিগ্ধ রূপমাধুরী ও অনিন্দ্যঘ্রাণে, ভ্রমরের গুঞ্জনে আর রৌদ্রঔজ্বল্যে পাখির কলকাকলিতে মুখরিত করে তুলেছেন। তিনি মানব জীবনের ঝাপসা স্মৃতিগুলোকে তুলে এনেছেন তাঁর কবিতায়। নুরুল হুদা তাঁর ‘চন্দন সুখ’ কবিতায় অপেক্ষা ও সংকল্প ধরা দিয়েছে এভাবেই: “সে যদি না আসে, যাব না নীড়ে”—এই চরণে কবির একরোখা অভিমান এবং ভালোবাসার গভীরতা প্রকাশ পায়। নীড় বা ঘরে ফিরে যাওয়ার চেয়ে অজানার পথে পাড়ি দেওয়া বা তীরের বেদনার চিহ্ন নিয়ে পড়ে থাকাকেই তিনি শ্রেয় মনে করেছেন।
‘চন্দন’ যেমন দহন বা ক্ষয়ের মাধ্যমে সুগন্ধ ছড়ায়, কবির এই বিষাদ বা ‘বেদনার চিহ্ন’গুলোও তেমনি এক ধরনের পবিত্র ও স্নিগ্ধ অথচ দগ্ধ সুখের প্রতিকীরূপে উপস্থাপন করেছেন। এই জ্বালাময়ী সুখকেই তিনি আগলে রাখতে চান, অর্থাৎ প্রিয়জনকে না পেলেও তার দেওয়া বিরহটুকুই কবির কাছে অতীব মহার্ঘ বটে!
চৌধুরী নুরুল হুদা ব্যক্তিজীবনে এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। কবিপত্নী কিমিয়া জোয়ারদার একজন শিক্ষক এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত নজরুল সংগীত শিল্পী হিসাবে তালিকাভুক্ত। বর্তমানে চৌধুরী নূরুল হুদা ঢাকাস্থ জাপান গার্ডেন সিটি লিমিটেড-এর কর্পোরেট অ্যাডমিন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।




