শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক সাবেক সেনা সদস্যের বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে। তবে কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ২৩ আগস্ট রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গিলাগাছা তালুকদার বাড়ি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি হলেন সাবেক সেনা সদস্য শফিকুল ইসলাম মিঠু।
এদিকে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রবিবার রাতে হঠাৎ বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও গৃহস্থালির মালামাল পুড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই বের করতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন পাশের আরও দুটি বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সাংবাদিক মো. নাইম তালুদার জানান, আগুনে তাদের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে। দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ে গড়া বসতঘর ও প্রয়োজনীয় মালামাল হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা।
শ্রীবরদী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, আগুনে একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের দুর্দশার কথা শুনেছি। এই কঠিন সময়ে আমি তাদের পাশে আছি। সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।




