শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নিখোঁজের আট দিন পর বিল্লাল হোসেন (৪৫) নামে এক ধান ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১২ আগস্ট বুধবার দুপুরে উপজেলার পূর্ব গজারীকুড়া এলাকার রঞ্জনা খালের পাড়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। বিল্লাল হোসেন উপজেলার জারুলতলা এলাকার জুলহাসের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে ধান ব্যবসা করতেন। এছাড়া তিনি সুদের ব্যবসার সাথেও জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারী-পুরুষসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বিল্লাল হোসেন নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ঝিনাইগাতী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বুধবার দুপুরে পূর্ব গজারীকুড়া এলাকার রঞ্জনা খালের পাড়ে স্থানীয় লোকজন দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাঁরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিল্লাল হোসেনকে হত্যার পর তার লাশ সেখানে মাটিচাপা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) আফসান আল আলম এবং ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নূর মোহাম্মদ। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি এস এম নূর মোহাম্মদ।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




