বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয় ব্রাজিল। হেক্সা পূরণে ২০২৬ বিশ্বকাপে আদা-জল খেয়ে নামিছে সেলেসাওরা। নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের মাঠের বাইরের সব ধরনের ব্যস্ততা ও বিভ্রান্তি থেকে দূরে বিশেষ পরিকল্পনা করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)।

আগামী ১১ জুন শুরু হবে ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ। গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা ব্রাজিল ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করবে। এর আগে গত ১৮ মে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
বিশ্বকাপ চলাকালীন খেলোয়াড়দের জন্য একটি নির্দিষ্ট আচরণবিধি প্রণয়ন করেছে সিবিএফ। মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে থাকবে বিশেষ নজরদারি। প্রস্তুতি পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকেই খেলোয়াড়রা যেন বাইরের কোনো বিষয় নিয়ে ব্যস্ত না হন, সেটিই নিশ্চিত করতে চায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচের পরদিন খেলোয়াড়দের জন্য বাধ্যতামূলক বিশ্রামের সময় নির্ধারণ করা হবে। পরিবারের সদস্যরা দলের সঙ্গে একই হোটেলে থাকতে পারবেন না। তাদের জন্য আলাদা আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ম্যাচের টিকিটও বরাদ্দ থাকবে নির্দিষ্ট সংখ্যায়।
ব্রাজিল দল যে হোটেলে অবস্থান করবে, সেখানে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বাইরে অন্য কারও প্রবেশের অনুমতি থাকবে না। একই সঙ্গে বেশির ভাগ অনুশীলন সেশনই হবে রুদ্ধদ্বার। ফলে সাধারণ দর্শক কিংবা সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার থাকবে সীমিত। ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতে থাকবে বাড়তি পুলিশি তৎপরতাও।
তবে কড়াকড়ির মধ্যেও খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সিবিএফ। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, রিকভারি সেশন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ রাখা হয়েছে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হবে স্ক্যানার, সেন্সর এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ সরঞ্জাম। এ কাজে সহায়তা করবেন বিশেষজ্ঞদের একটি দল। পাশাপাশি দলের জন্য থাকছেন বিশেষ রাঁধুনি এবং সর্বাধুনিক ক্রীড়া সরঞ্জামের ব্যবস্থাও।
ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের বেসক্যাম্পও চূড়ান্ত করেছে ব্রাজিল। টুর্নামেন্ট চলাকালীন সেলেসাওরা অবস্থান করবে নিউ জার্সির বাস্কিং রিজের ‘দ্য রিজ হোটেল’-এ। আর অনুশীলন করবে মরিস্টাউনের ‘কলাম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং সেন্টার’-এ।




