ads

শুক্রবার , ২১ নভেম্বর ২০২৫ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ভূমিকম্পে নরসিংদীতে ৫ জনসহ নিহত ৯, আহত ৬৬৫

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
নভেম্বর ২১, ২০২৫ ১০:৪১ অপরাহ্ণ

৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নরসিংদীতে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন এবং ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে চারজনসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬৬৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ২১ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী ও ঘোড়াশালের মধ্যবর্তী এলাকায় এ ভূকম্পনের উৎপত্তি হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

Shamol Bangla Ads

এদিকে শুক্রবার রাত ৯টায় হাসপাতালগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানী ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভূমিকম্পে আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬০৬ জন। এ ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত সাতজনের মধ্যে মিটফোর্ড হাসপাতালে তিনজন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দু’জন, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে একজন এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন মারা যান।

নরসিংদীতে ছাদ থেকে ইট পড়ে মারা গেছেন দেলোয়ার হোসেন (৩৭), তার ছেলে ওমর ফারুক (৮), কাজম আলী ভূইয়া (৭০), নাসির উদ্দিন (৫০ ও ফুরকান মিয়া (৪২)। দেলোয়ার হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামে। তারা নরসিংদীর গাবতলী এলাকায় ভাড়া থাকেন। এছাড়া কাজম আলী পলাশ উপজেলায় ও ফুরকান মিয়া শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা।

Shamol Bangla Ads

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার সকালের ভূমিকম্পে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি তৈরি হয়। এতে ঘর-বাড়ি কেঁপে ওঠে। এ সময় লোকজনকে ঘর থেকে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। প্রায় ২৬ সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে নরসিংদীর সদর উপজেলার গাবতলী এলাকার একটি নির্মাণাধীন সাত তলা ভবনের ছাদ থেকে ইট পড়ে দেলোয়ার হোসেন (৩৭), তার ছেলে ওমর ফারুক (৮) ও অজ্ঞাত আরেকজন আহত হন। গুরুতর আহত ওমর ফারুক ও দেলোয়ার হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়।

এছাড়া পলাশ উপজেলার মাটির ঘরের নিচে চাপা পড়ে মালিতা গ্রামের কাজম আলী ভূইয়া (৭০) মারা যান। পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিন (৫০) ও শিবপুর উপজেলার আজকিতলা গ্রামের ফুরকান মিয়া (৪২) ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে মারাত্মক আহত হন। তাকে প্রথমে নরসিংদীর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হলে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়।

শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ফারজানা ইয়াছমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নরসিংদীর সদর হাসপাতাল ও নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্যমতে, কমপক্ষে দেড়শতাধিক মানুষ আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতের মধ্যে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ৫৭ জন এবং নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ভূমিকম্পে জেলার প্রায় সব উপজেলায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জেলা প্রশাসন বলছে, নরসিংদী শহরের অনেক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার নতুন বাজার গ্রামের ইশাক মিয়ার বাড়ি ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ভূমিকম্পে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাব-স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাতীয় গ্রিডের সাবস্টেশনে যন্ত্রাংশ আগুনে পুড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় ভূমিকম্পের কারণে বেশ কয়েকটি ভবনে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর পুরাতন রেল ব্রিজে ফাটল দেখা দিয়েছে।

পলাশ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুস শহীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের চেষ্টায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এদিকে ঘটনাস্থল ও সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন এবং নরসিংদী পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পরিদর্শন করেছেন। এসময় তারা আহতদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, ভূমিকম্পে জেলায় বিভিন্ন জায়গায় আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। যেকোনো দুর্যোগে জেলা পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ড. সৈয়দ আমিরুল হক শামীম জানান, ভূমিকম্পের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। এছাড়া কম-বেশী ৫৫ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। তাদেরকে নরসিংদী জেলা হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান চারজনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় আমি অবগত নই। তবে আমি শুনেছি, দেলোয়ার হোসেন আইসিইউতে রয়েছেন।

পুরান ঢাকায় তিনজনের মৃত্যু: পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, রাফিউল ইসলাম (আনুমানিক ২০ বছর), আবদুর রহিম (৪৮) ও তাঁর ছেলে আব্দুল আজিজ রিমন (১২)। রাফিউল ইসলাম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের শিক্ষার্থী বলে তার পরিবার জানিয়েছে। আবদুর রহিমের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে। তিনি সুরিটোলা স্কুলের পেছনে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

নারায়ণগঞ্জে শিশুর মৃত্যু: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের ১০ মাসের এক শিশু মারা গেছে। এ সময় শিশুটির মা কুলসুম বেগমসহ (৩০) দুজন আহত হন। সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ইসলামবাগ ৫ নম্বর ক্যানেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই সর্বোচ্চ ৬৭ জন আহত চিকিৎসা নেন। মিটফোর্ডে ১৭ জন, পঙ্গু হাসপাতালে ১০১ জন, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন এবং মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬ জন।

ঢাকার বাইরে আহতদের ঢল : ঢাকার বাইরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ৫৯, জেলা হাসপাতালে ১৩, রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, রূপগঞ্জে ৪, বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪, সোনারগাঁওয়ে ৪, গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৫, টঙ্গী আহসানুল্লাহ হাসপাতালে ৮৫, শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৭, কালিগঞ্জে ৫, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৬ এবং মাগুরার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৮ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. মঈনুল আহসান বলেন, সব হাসপাতালকে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজহারুল ইসলাম খান বলেন, এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ১৭ জনের চিকিৎসা চলছে। এক নারী নুসরাতের মাথায় গভীর ক্ষত সেলাই করা হয়েছে। তাঁকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, আহত ৬৭ জনের মধ্যে ৬ জনকে ভর্তি রাখা হয়েছে। শিশু–সহ দুজন মারা গেছেন। শিশুটি হাসপাতালে আনার আগেই মারা যায় এবং তার বাবা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, ১০১ জন চিকিৎসা নিলেও হাসপাতালে কারও মৃত্যু হয়নি। তাদের বেশির ভাগের হাত-পা ভাঙা বা বিভিন্ন আঘাত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। অধিকাংশই ঢাকার আশপাশের এলাকার বাসিন্দা।’

সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: ঢামেকে আহতদের দেখতে এসে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, ‘সব সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ভূমিকম্পে আহতদের চিকিৎসায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে। তিনি জানান, অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কে দুই-তিন তলা থেকে লাফ দেওয়ায় গুরুতর আহত হয়েছে।

Need Ads
error: কপি হবে না!