আইয়ুব বাচ্চু সব সময় প্রাসঙ্গিক। ঠিক তার গাওয়া গানের মতো, যেখানে তিনি অকপটে বলে গেছেন একটি সত্য– ‘আমি যাব চলে, দূরে বহুদূরে/ গান শুধু রবে, আমার স্মৃতি নিয়ে…।’ তাই আইয়ুব বাচ্চুর অনবদ্য সৃষ্টি, অনিন্দ্য গায়কি, শোণিতধারায় ঝড় বইয়ে দেওয়া গিটার বাদন নিয়ে অনুরাগীরা আলোচনায় মুখর হবেন; স্মৃতি রোমন্থনে ডুব দেবেন; মনে করিয়ে দেবেন, কীভাবে তিনি হয়ে উঠেছিলেন তাঁর কালের শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড তারকা; কেন তার গানগুলো এখনও শ্রোতামনে অনুরণন তুলে যাচ্ছে– এটাই স্বাভাবিক।

সে কারণে এবার কিংবদন্তি এই শিল্পী ও সংগীতস্রষ্টার স্মরণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বাংলা রক গানের উৎসব। ডিমভি বাংলা রক ফেস্টিভ্যালের ধারাবাহিক আয়োজনের এবারের এই কনসার্টের শিরোনাম ‘ঘর ছাড়া এক সুখী ছেলে’। এটি অনুষ্ঠিত হবে ৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ফলস চার্চ মিলনায়তনে।
এতে গানে গানে আইয়ুব বাচ্চুকে শ্রদ্ধা জানাবে ব্যান্ড বিবাগী, ক্রোনেজ, জটিল, স্যাডো ড্রিমস এবং রাফি আলম ও তাঁর ব্যান্ড। এ ছাড়া এই আয়োজনে অংশ নেবেন এলআরবি ব্যান্ডের সাবেক সদস্য কণ্ঠশিল্পী ও সংগীতায়োজক এসআই টুটুল। বিশেষ অতিথি থাকবেন এলআরবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বেইজ গিটারিস্ট স্বপন। এই উৎসবের আয়োজন করেছেন রোজারিও মিডিয়াওয়ার্কস।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৭ নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হবে ‘ঘর ছাড়া এক সুখী ছেলে’র আয়োজন। চলবে রাত পর্যন্ত। এতে অংশ নেওয়া প্রতিটি ব্যান্ড কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুকে তাঁর গানের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে। পাশাপাশি থাকবে আবৃত্তি, আলোচনাসহ আরও কিছু আয়োজন। এ উৎসবে আরেকটি চমক হলো আইয়ুব বাচ্চুর দীর্ঘদিনের সংগীত সহযোদ্ধা এবং ব্যান্ড এলআরবির দুই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য স্বপন ও টুটুলের অংশগ্রহণ।
আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘আমাদের চাওয়া একটাই, আইয়ুব বাচ্চু যে ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, সেই ভালোবাসার দাবি পূরণের মধ্য দিয়ে তাঁকে চিরকাল মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখা।’
একই রকম ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা ও তাদের দুই সন্তান ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব ও আহনাফ তাযওয়ার আইয়ুব। এ খবরে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আইয়ুব বাচ্চুর ভক্ত-অনুরাগীরা অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেদের মতপ্রকাশ করে যাচ্ছেন সেসব ভক্ত-অনুরাগী। তাদের কথায়, ‘শিল্পীর মৃত্যু নেই; সৃষ্টির মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকেন চিরকাল।’




