৯ রানের অপেক্ষায় থেকে মুশফিকুর রহিম গিয়েছিলেন মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে। লিটন দাস ফিফটি থেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৬ রানের দূরত্বে। এদিকে বাংলাদেশের অপেক্ষাটা ছিল ১৭ রানের। তিনটি অপেক্ষাই মিটে গেল দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে। ক্যারিয়ারের সপ্তম দেড়শো রানের ইনিংসের দেখা পেয়ে গেলেন মুশফিক। ১৮তম ফিফটির দেখা পেয়ে গেছেন লিটনও। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশও ছুঁয়ে ফেলেছে ৪০০ রানের মাইলফলক।

মাইলফলকগুলো ছোঁয়া হয়েছে ১২ বলের এদিক ওদিকে। প্রথমে পালা ছিল মুশফিকের। থারিন্দু রত্নায়েকের বলে ফাইন লেগ দিয়ে চার মেরে ক্যারিয়ারে সপ্তম বারের মতো ১৫০ ছুঁয়ে ফেলেন মুশফিক। সে ওভারের শেষ বলে লিটন দাস এক্সট্রা কভার অঞ্চল দিয়ে হাঁকান দারুণ এক চার। সে চারে চারশো রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এক ওভার পর সেই থারিন্দুর বলে একটা রান নিয়ে ক্যারিয়ারের ১৮তম পঞ্চাশ রানের দেখা পেয়ে যান লিটন। ১১ ইনিংস পর এই প্রথম কোনো ফিফটির দেখা পেলেন তিনি। বিষয়টা তাকে বেশ স্বস্তিই যে দেবে, তা আর বলতে!
মুশফিকুর রহিম এবার শ্রীলঙ্কাকে চোখরাঙানি দিচ্ছিলেন আরও বড় কিছুর। ঠিক সে সময় জোরালো আবেদন উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। তবে আম্পায়ারের ‘বদান্যতায়’ রক্ষা পেয়ে গেছেন তিনি। এর ঠিক পরেই খেলা বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টি শুরু হয়েছে গলে। গুড লেন্থ থেকে ভেতরে ঢোকা বলটা মুশফিক ঠিকঠাক ডিফেন্ড করতে পারেননি। তার রক্ষণ গলে বলটা ঢুকে গিয়েছিল ভেতরে, আঘাত হানল প্যাডে। তাতে শুরুতে আপিলও করার প্রয়োজন মনে করেননি বোলার মিলান রত্নায়েকে।

তবে একটু পরই তাকে অবাক করে দিয়ে নটআউটের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার অ্যালেক্স ওয়ার্ফ। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেয় শ্রীলঙ্কা। সেখানে দেখা যায় বল ব্যাটে লাগেনি, সোজা লেগেছে প্যাডে। বল ট্র্যাকার দেখায় লেগ স্টাম্পের অংশবিশেষে বলটা লাগত। তবে আম্পায়ার যেহেতু নট আউট দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বলবৎ থাকবে। ‘আম্পায়ার্স কল’ বাঁচিয়ে দেয় মুশফিকুর রহিমকে।
গল টেস্টের আগেই পূর্বাভাস ছিল, পাঁচ দিনই বৃষ্টি হতে পারে। প্রথম দিনটা বৃষ্টির কবল থেকে রেহাই পেয়েছিল। তবে দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই আকাশে মেঘের আনাগোনা ছিল বেশ করে। মিলান রত্নায়েকের ওই আবেদন নাকচ হয়ে যেতেই বৃষ্টি নামে ঝমঝমিয়ে। দ্রুতই কভার নিয়ে আসা হয় মাঠে। খেলোয়াড়রা উঠে যান প্যাভিলিয়নে। প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত ৪২৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ, হাতে আছে এখনও ৬টি উইকেট। গলে প্রথম ইনিংসে গড়পড়তা ‘উইনিং টোটাল’ হচ্ছে ৪৩৭ রান। সে রান থেকে এখন ১৪ রানের দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। অপেক্ষা এখন বৃষ্টি শেষ হওয়ার।




