পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরবের মক্কায় সমবেত হয়েছেন বিশ্বের লাখ লাখ মুসলিম। আজ বৃহস্পতিবার হজের মূল কার্যক্রম হিসেবে হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। তাঁরা গতকাল বুধবার ইহরাম বেঁধে সারা দিন মিনায় অবস্থান করেছেন। মঙ্গলবার থেকেই অনেকে মিনায় যাওয়া শুরু করেছেন।

এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। হজের অংশ হিসেবে হজযাত্রীরা ৮ থেকে ১২ জিলহজ মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও মক্কায় অবস্থান করবেন। এরপর সাঈ, তাওয়াফ ও দমে শোকর আদায়ের মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী হজের কার্যক্রম শেষ হবে। অন্যদিকে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে।
ঈদুল আজহা কোরবানির ঈদ হিসেবেও পরিচিত। কোরবানি শব্দটির অর্থ ত্যাগ ও নৈকট্য। মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি ও মানবকল্যাণে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করাই মূলত ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের তাৎপর্য। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়ে অনন্য ত্যাগের আদর্শ স্থাপন করে গেছেন।

আল্লাহর নির্দেশেই তিনি ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন মক্কার মরু প্রান্তরে। মহান আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-এর সংকল্পের দৃঢ়তা দেখে তাঁর কোরবানি কবুল করেন এবং ইসমাঈল (আ.)-এর স্থলে একটি দুম্বা কোরবানি মঞ্জুর করেন। তারই সূত্র ধরে গোটা মুসলিম জাহানে আজও চলে আসছে কোরবানির এই ধারা। এর ভেতর দিয়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের দিকে অগ্রসর হয় মুসলিম জাতি।
কোরবানি মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যাদের ওপর জাকাত ওয়াজিব, তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। পশু কোরবানির মাধ্যমে গরিব-দুঃখী ও পাড়া-প্রতিবেশীর আপ্যায়নের ব্যবস্থা হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্বার্থত্যাগ, আত্মত্যাগ ও সম্পদত্যাগই হলো কোরবানি। কোরবানি কেবল একটি আনন্দ উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা ও দর্শন। ঈদুল আজহা আত্মত্যাগের প্রেরণায় উজ্জীবিত এক অনন্য আনন্দ উৎসব। যে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণ মূর্ত হয় মানুষের জীবনে, তার জন্য চরম ত্যাগ স্বীকারের এক প্রতীকী আচার এই কোরবানি। ঈদুল আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিজের অহমিকা ও উচ্চাভিলাষ উৎসর্গ করা। পশু কোরবানির ভেতর দিয়ে মানুষের ভেতরে থাকা পশুশক্তি, কাম-ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি রিপুকে ত্যাগ করতে হয়। তাই কেবল পশু নয়, প্রয়োজন পশুত্বের কোরবানি। পশু কোরবানির ক্ষেত্রে এই অনুভূতি অবশ্যই প্রয়োজন। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর কাছে কখনোই পশুর রক্ত ও মাংস পৌঁছে না, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া বা খোদাভীতি।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩৭)
আজ এমন এক সময়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে যাচ্ছে, যখন সমাজ ক্রমেই এক অস্থিরতা ও নিষ্ঠুরতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশের এক বড় অংশজুড়ে বন্যার হাতছানি। মানুষের দুর্ভোগ চরমে। এমন পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহমর্মিতার পথ থেকে আমরা যেন দূরে সরে না যাই। মানুষে-মানুষে সৌভ্রাতৃত্ব তৈরি করতে হবে। সব ক্ষেত্রে ত্যাগের মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। সেবার মানসিকতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে দুস্থ ও আর্ত মানুষের পাশে। সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।




