বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাতের বিডাব্লিওএমআরআই হাইবীড ভুট্টা-২ এর ব্লক প্রদর্শনী ও মাঠ দিবস হয়েছে শেরপুরে। ১৫ এপ্রিল বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার দিকপাড়া গ্রামের কৃষক মো. শাহজাহান আলীর ১০ বিঘা জমিতে আবাদকৃত ভুট্টা ক্ষেতের পাশে ওই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

জামালপুর আঞ্চলিক কেন্দ্র আয়োজিত ওই মাঠ দিবসে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর মহাপরিচালক ড. মাহফুজ বাজ্জাজ প্রধান অতিথি এবং ভুট্টার জাত উদ্ভাবক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহফুজুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। জামালপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আসাদুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জামালপুর জেলার উপপরিচালক মো. আলম শরীফ, শেরপুর জেলার উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান, মো. আকাশ আহমেদ খান, কৃষক মো. শাহজাহান প্রমুখ।
কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান, ভুট্টা লাভজনক হওয়ায় এর আবাদ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলে যেখানে বেলে মাটি, পানিসেচ দিয়ে ধান কিংবা অন্য ফসল চাষে খরচ বেশী, সেসব জমিতে ভুট্টার আবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। বিডাব্লিওএমআরআই হাইবীড ভুট্টা-২ জাতটি খরা সহনশীল, আবাদে ঝামেলা কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশী, ফলনও ভালো। লাগানোর ১৪০ থেকে ১৫০ দিনের মধ্যে ফলন ঘরে তোলা যায়। ফলন হয় বিঘাপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মণ। অন্যান্য জাতের ভুট্টার চাইতে বিডাব্লিওএমআরআই হাইবীড ভুট্টা-২ এর ফলন হেক্টর প্রতি প্রায় এক টন বেশী পাওয়া যায়। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

কৃষক মো. শাহজাহান জানান, গত বছর থেকে তিনি ১০ বিঘা জমিতে বিডাব্লিওএমআরআই হাইবীড ভুট্টা-২ আবাদ করে আসছেন। গত বছরও ভালো ফলন পেয়েছেন এবং এক হাজার ৫০ টাকা মণ দরে বিক্রী করে ভালো লাভ পেয়েছেন। এবারও শুকনা অবস্থায় বিঘাপ্রতি ৪০ মণ করে ফলন পাবেন বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর মহাপরিচালক ড. মাহফুজ বাজ্জাজ বলেন, বিডাব্লিওএমআরআই হাইবীড ভুট্টা-২ আমাদের দেশীয় একটি ভুট্টার জাত। বাজারে প্রচলিত অন্যান্য জাতের ভুট্টার বীজ দেশের বাইরে থেকে আমদানী করতে হয়। যাতে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। কিন্তু বিডাব্লিওএমআরআই হাইবীড ভুট্টার জাত উদ্ভাবনের ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এর বীজের দামও কম। তাছাড়া আবাদে কম কীটনাশক ব্যবহার হওয়ায় এটি পরিবেশ বান্ধব ও খরচ সাশ্রয়ী। ভুট্টার বহুমখি ব্যবহারের ফলে আশাকরছি আগামী দিনে বিডাব্লিওএমআরআই উদ্ভাবিত হাইবীড ভুট্টা জাতসমূহ কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে ওঠবে। তিনি জানান, বিডাব্লিওএমআরআই এ পর্যন্ত হাইবীড ভুট্টার ৩টি জাত অবমুক্ত করেছে। এমন কোন জমি নেই, যেখানে এই জাতটি আবাদ করা যায় না। চাহিদার প্রেক্ষিতে সারাদেশে জাতটি ছড়িয়ে দিতে বিএডিসি ও তাদের চুক্তিবদ্ধ চাষীদের মাধ্যমে বিডাব্লিওএমআরআই হাইবীড ভুট্টা-২ বীজ উৎপাদন করার প্রক্রিয়া চলছে।
বিডাব্লিওএমআরআই জামালপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের জামালপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিডাব্লিওএমআরআই হাইবীড ভুট্টা-২ এ জাতের ভুট্টার মোচা বড় হয়, দানা পুষ্ট ও সংখ্যায় বেশী হয়। তাছাড়া এতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। ভুট্টার কোন অংশই ফেলনা নয়। এটি যেমন দানাদার খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তেমনি এর গাছের অংশ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাতাগুলোও গরুর খাবার সাইলেস হিসেবে হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভুট্টা থেকে পোল্ট্রি, ডেইরী, ফিশারী ফিড তৈরী হয়। চাইনীজ খাবারেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,শেরপুর জেলায় এবার ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে এবং জামালপুর জেলায় ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। দিন দিন ভুট্টা চাষ বাড়ছে।




