ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় এবং তার অব্যবহিত পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করলেও এখন পর্যন্ত সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুর থেকে কোন মন্ত্রী বা সমমর্যাদার প্রতিনিধি দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বিলম্বে হলেও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) বিপুল ভোটাধিক্যে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে নিয়েই শেষ ভরসা করছেন শেরপুরবাসী।

জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে (১৯৭৩-২০২৬) প্রায় সকল সরকারেই শেরপুর থেকে মন্ত্রীত্ব বা সমমর্যাদার প্রতিনিধিত্ব ছিল। এর মধ্যে ১৯৭৯-১৯৮২ মেয়াদের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী শেরপুর-১ (সদর) থেকে এমপি খন্দকার আব্দুল হামিদ ও শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন থেকে অধ্যাপক আব্দুস সালাম বিএনপিদলীয় উপমন্ত্রী নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে তৃতীয় সংসদে (১৯৮৬-৮৭) অধ্যাপক আব্দুস সালাম জাতীয় পার্টি থেকে প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। এরপর সপ্তম সংসদে (১৯৯৬-২০০১) একই আসন থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় পূর্ণ মন্ত্রী নিযুক্ত হন বেগম মতিয়া চৌধুরী। অষ্টম সংসদে (২০০১-২০০৬) এ আসন থেকে সরকারদলীয় হুইপ নিযুক্ত হন বিএনপিদলীয় এমপি আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরী। এরপর নবম ও দশম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে (২০০৯-২০১৯) টানা দুইবার কৃষিমন্ত্রী নিযুক্ত হন বেগম মতিয়া চৌধুরী। এছাড়া দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদে (২০১৪-২০২৪) টানা দুইবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় হুইপ নিযুক্ত হন মো. আতিউর রহমান আতিক। আর দ্বাদশ জাতীয় সংসদে (২০২৪) সরকারদলীয় সংসদ উপনেতা নির্বাচিত হন বেগম মতিয়া চৌধুরী।
কিন্তু শেরপুর-৩ আসন থেকে কোন সরকারের মেয়াদেই এখন পর্যন্ত কোন মন্ত্রী বা সমমর্যাদার পদে কোন প্রতিনিধিত্ব দেখা যায়নি। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনে বিএনপি হারলেও বাকি দুটি আসনেই জিতেছেন দলীয় প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে শেরপুর-২ এর সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী সাবেক হুইপ প্রয়াত জাহেদ আলী চৌধুরীর পুত্র। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নবীন। সে হিসেবে দলের দায়িত্বশীল নেতা, একাধিকবারের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ডা. সেরাজল হকের পুত্র ও চারবারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় মাহমুদুল হক রুবেলকে নিয়েই অভিজ্ঞ ও সচেতন মহলসহ শেরপুরবাসীর ভাবনা চলছে। ইতোমধ্যে গত ১২ এপ্রিল দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ এবং তার পরপরই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের পর থেকেই তিনি ব্যাপক আলোচনায় উঠে এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, রেলপথ ও সীমান্তের হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনসহ শেরপুরবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও প্রাণের দাবিগুলো শতভাগ পূরণের লক্ষ্যে তার প্রতি ভরসা রাখছেন দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত শেরপুর-৩ নির্বাচনী এলাকা মন্ত্রীত্বের স্বাদ গ্রহণ করেনি। এবারের প্রেক্ষাপটে চারবারের এমপি মাহমুদুল হক রুবেল একজন যোগ্য ও দক্ষ প্রতিনিধি হওয়ায় তাকে পূর্ণ মন্ত্রী দেওয়ার জন্য আমরা সরকার প্রধান তারেক রহমানের প্রতি দাবি জানাচ্ছি। একই দাবি জানান উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শাজাহান আকন্দ, সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মান্নান এবং শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. আব্দুর রহিম দুলাল ও সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল।
এছাড়া জেলা আইনজীবী সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট এমকে মুরাদুজ্জামান ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আলহাজ্ব মো. আরিফ হোসেনসহ বিভিন্ন মহল শেরপুর অঞ্চল থেকে চারবারের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে সরকার প্রধানের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।




