ads

মঙ্গলবার , ২০ মে ২০২৫ | ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

টং দোকানেই পিতা-পুত্রের রাত্রিযাপন

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মে ২০, ২০২৫ ৩:১৮ অপরাহ্ণ

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর বাজারের নাম মাত্র ছোট একটি টং দোকান থাকলেও দিনের বেলায় চালায় দোকান, রাত নামলেই সেটিই রূপ নেয় পিতা-পুত্রের আশ্রয়কেন্দ্র। তবে এটি কোনো সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র নয়, এটি হতদরিদ্র আব্দুল্লাহ আল লাভলু নামের এক অসহায় পিতার শেষ ভরসা।

Shamol Bangla Ads

সহায় সম্বল বলতে কিছুই নেই এই অসহায় হতদরিদ্র লাভলুর, বসত বাড়ীর ভিটেমাটি না থাকায় আট বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও দোকানের ভেতরই কেটে যায় তাঁদের প্রতিটি রাত। আব্দুল্লাহ আল লাভলু উপজেলার সদরের মৃত হাসমত আলীর ছেলে।

চোখ পড়লো লাভলু চোখ মুছতে মুছতে বলেন, এক সময় পরিবার ছিল, ঘর ছিল।
মা ছিলেন একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর আগে মায়ের মৃত্যুর পর সবকিছুই যেন হয়ে যায় ওলটপালট। মা মারা যাওয়ার পর তাঁর রেখে যাওয়া একমাত্র বসতভিটেটুকু ভাইবোনেরা মিলে বিক্রি করে ভাগ করে নেয় শেষ সম্বল বলতে কিছুই থাকেনা ভাগ্যে।
মা জীবিত থাকাকালীন সময় রিক্সা চালিয়ে দিন চলে যেত। বসত ভিটে জমি বা ঘরবাড়ি না থাকা দরিদ্রতা সংসারে এনে দেয় ভাঙন। বসত ঘড় না থাকায় স্ত্রীও একমাত্র কন্যাসন্তানকে নিয়ে চলে যায়, রেখে যায় ছেলেকে।

Shamol Bangla Ads

বর্তমানে রিক্সাও নাই এখন এই দোকানেই রাত কাটে। রাতের বেলায় একটা ছেড়া কাথা মুড়িয়ে কখনও খেয়ে আবার,কখনও না খেয়েও কেটে যায়। লাভলু অঝোরে কেঁদে কেঁদে বলেন, “ছেলেটাকে স্কুলে পাঠাতে চাই। মানুষ করতে চাই। কিন্তু নিজেই ঠিকমতো খেতে পারি না, ঘুমাতে পারি না। কোথায় যাব, কাকে বলব, বুঝি না।” স্থানীয়রা জানান,লাভলু একজন নিরীহ ও পরিশ্রমী মানুষ। কিন্তু জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে তিনি আজ অসহায়।

স্থানীয় বস্ত্র ব্যবসায়ী মোস্তফাসহ আরও অনেকে বলেন,“প্রতিদিন দোকান বন্ধ করার পর এখানে এসে দেখি, লাভলু তাঁর ছোট ছেলেকে জড়িয়ে ধরে ছোট এই টং দোকানে সামান্য জায়গায় ঘুমানোর চেষ্টা করছেন। কোনোদিন দেখি বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপছে শিশুটি, আবার কোনোদিন দেখা যায় গভীর রাতে চোখের ক্লান্তি নিয়ে পিতা-পুত্র দুজনেই জেগে আছে।

তিনি আরও বলেন,”শিশু অধিকার রক্ষায় আমরা নীতিমালা প্রণয়ন করি, সভা-সেমিনারে বড় বড় কথা বলি। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন—এই শিশুটির চোখে প্রতিনিয়ত ভেসে ওঠে শুধুই বাঁচার তীব্র আকুতি। স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন বুকের গভীরে জমা থাকলেও পিতার করুণ বাস্তবতা তাকে টেনে রাখছে এক অনিশ্চিত ও অন্ধকার ভবিষ্যতের পথে।”

প্রতিটি শিশুরই নিরাপদ আবাসন, পুষ্টি ও শিক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে। লাভলুর সন্তানও এর বাইরে নয়। তবে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সমাজের সহানুভূতির ওপর। এসময় সরকারের সার্বিক সহযোগীতাও কামনা করেন তিনি।

সাইফুল ইসলাম জুয়েল, ঝিনাইগাতী, শেরপুর। 

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!