বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মদিন আজ (১৭ মার্চ)। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান ও মা সায়েরা খাতুন।

এদিকে গত বছরের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তবর্তীকালীন সরকার এরই মধ্যে দিনটির রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সরকারি ছুটি বাতিল করেছে। ফলে এবার দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও পালিত হচ্ছে না। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে দলীয়ভাবেও কোন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে না।
জানা যায়, শৈশব থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার। গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে অধ্যয়নকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের ফলে তাকে প্রথমবারের মতো কারাবরণ করতে হয়। পরবর্তীতে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের সংস্পর্শে এসে রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৪৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ’৬৬-র ছয় দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচন তাকে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করলেও, মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস পর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতার সূর্যোদয় ঘটে। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে তিনি স্বাধীন দেশে ফিরে আসেন এবং দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন।
জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন—পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরে প্রায় ১৩ বছরই ছিলেন বন্দি। বন্দিদশায় মোট আটবার জন্মদিন পালন করতে হয় তাকে। তবে বঙ্গবন্ধু কখনোই নিজ জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপন করতেন না। সাধারণভাবে পরিবারের সান্নিধ্যে ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কাটাতেন দিনটি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে সপরিবারে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।




