শেরপুরের নকলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক, সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ প্রয়াত আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ৪ জানুয়ারি শনিবার সকালে নকলা চৌধুরী ছবরুননেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজ চত্বরে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর সহধর্মীনি ফরিদা চৌধুরী। প্রিয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী।
উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো. খোরশেদুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল হক দুলাল, যুগ্ম আহবায়ক টুটন চৌধুরী, আহসান হাফিজ খান, মহিউদ্দিন মোক্তার ও সায়েদুল হক লাঞ্জু, তরুণ বিএনপি নেতা দোলোয়ার হোসেন সাঈদী, উপজেলা বিএনপি’র সদস্য রাব্বেনুর চৌধুরীসহ অনেকেই। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য এনামুল হক রিপন।

ওইসময় জিয়া মঞ্চের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিন্টু মিয়াসহ উপজেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার পূবালী কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী নকলার সন্তান আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরী শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন থেকে বিএনপি’র প্রার্থী হন। নির্বাচনে তিনি সাবেক কৃষিমন্ত্রী প্রয়াত বেগম মতিয়া চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে তিনি নকলা-নালিতাবাড়ীসহ শেরপুর জেলা বিএনপিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে বিএনপিকে শক্তিশালী করেন। আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরীর দৃঢ় মনোবল, নিরলস প্রচেষ্টা, উদারতা, দানশীলতা আর দলের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে জেলা বিএনপি’র রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর পরর্বর্তী সংসদ নির্বাচনে বেগম মতিয়া চৌধুরী বিজয়ী হন। কিন্তু হাল ছাড়েননি আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরী। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে তার নেতৃত্বে সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে তোলেন কঠোর আন্দোলন।
পরবর্তীতে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জাহেদ আলী চৌধুরী মতিয়া চৌধুরীকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। বিএনপি সরকার গঠন করায় তিনি জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পান। একইসঙ্গে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নির্বাচিত হন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক পদে। পরবর্তীতে ২০১১ সনের ৪ জানুয়ারি ভোরে ঢাকাস্থ নিজ বাসায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরী। এরপর থেকেই নকলা-নালিতাবাড়ীতে বিএনপি’র রাজনীতি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে।




