জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় নিহত জাবি শিক্ষার্থী আফসানা করিম রাচিকে (২০) শেরপুরের নকলা উপজেলার নিজ গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ২০ নভেম্বর বুধবার রাতে আফসানার দাফনকাজ সম্পন্ন করেন পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।

এর আগে বুধবার দুপুরে ঢাকার ধানমন্ডির গ্রীণরোডে অনুষ্ঠিত হয় আফসানার প্রথম নামাজে জানাজা। পরে লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সে করে ওইদিন রাত ৭টা ২০ মিনিটের দিকে আফসানার লাশ নিয়ে আসা হয় শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চকবরইগাছি গ্রামের নিজ বাড়িতে। সেখানে রাত সাড়ে ৮টায় স্থানীয় মসজিদের চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় আফসানার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। পরে তাঁর লাশ দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।
আফসানার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাঁকে একনজর দেখার জন্য ভীড় করেন আত্মীয়স্বজন ও পাড়াপড়শি। কান্নায় ভেঙে পড়েন আফসানার ছোট চাচা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা রেজাউল করিম বাবুল (৬৫), ঠিকাদার রেজাউল করিম সাধন (৬২) ও মৎস্য খামারী রেজাউল করিম তপনসহ (৫৮) পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন। আফসানার লাশের সাথে ঢাকার গ্রীণরোডের বাসা থেকে এসেছিলেন আফসানার বাবা রেজাউল করিম বাদল (৭০), মা গৃহিণী কিসমত আরা বেগম (৬০), বড়ভাই রাহাত (৩৪), ইনসেপ্টা ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত বোন রিফাত (৩২), মালয়েশিয়াতে অধ্যয়নরত ভাই রিফতি (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বোন ঋতিকা (২৪) এবং ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট ভাই রওনক (১৩)। সবাই যেন শোকে পাথর। ক্যামেরার সামনে তাঁদের কেউ কোন কথা বলতে চাননি। কথা বলতে চাননি আত্মীয়স্বজন ও পাড়াপড়শি। সর্বত্রই ছিল শোকের ছায়া।

আফসানার নামাজে জানাজায় উপস্থিত চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাজু সাঈদ সিদ্দিকী জানান, আফসানার বাবা রেজাউল করিম বাদল পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার গ্রীণরোডে বসবাস করেন। ৪ ভাইয়ের মধ্যে রেজাউল করিম বাদল সবার বড়। রেজাউল করিমের ছোট ৩ ভাই থাকেন গ্রামের বাড়িতে। গ্রামের জায়গাজমি দেখভাল করতে মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসেন রেজাউল করিম বাদল। বছরে দু’একবার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। শুনেছি আফসানা খুব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তাঁর স্নেহমাখা আচরণ গ্রামের মানুষকে মুগ্ধ করত।
চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান গেন্দু জানান, জাবি শিক্ষার্থী আফসানার জন্ম একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তার দাদা মরহুম আলহাজ্ব ইলাম উদ্দিন ছিলেন পিটিআই এর ইন্সট্রাক্টর। বাপ-চাচারা সবাই উচ্চ শিক্ষিত এবং সবাই স্বস্ব জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। আফসানার মত একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।
উল্লেখ্য, ১৯ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাস্তা পারাপারের সময় ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় আফসানা। পরে শিক্ষার্থীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ও পরে মুমূর্ষু অবস্থায় সভারের এনাম মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৫৩ ব্যাচের (২০২৩-২৪ সেশন) শিক্ষার্থী আফসানা থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম খালেদা জিয়া আবাসিক হলে। আফসানা ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।




