শেরপুরে ভারতীয় পাসপোর্টধারী প্রণয় চন্দ্র সুত্রধর (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৩ জুন রবিবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের গৃর্দানারায়ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ২৪ জুন সোমবার নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, প্রণয় চন্দ্র ভারত থেকে শেরপুর শহরের গৃ্র্দানারায়ণপুর এলাকায় ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের জামালপুর জেলার নান্দিনা এলাকার মৃত হিরেন্দ্র সুত্রধরের ছেলে। ১৯৬৭ সালে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কুচবিহারের বাসিন্দা। তার ২ মেয়ে এবং স্ত্রী রয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত প্রণয় চন্দ্র গত রমজানে বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন এবং তার ভাই ডা. পিযুষ চন্দ্র সুত্রধরের শেরপুরের বাসায় অবস্থান করছিলেন। রবিবার বাসার সবাই বাইরে বেড়াতে গেলে সন্ধ্যায় এসে ঘরের ড্রইংরুমের ফ্যানের হুকের সঙ্গে প্রণয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশে খবর দিলে রাতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

মৃতের ভাই ডা. পীযুষ ও তার স্ত্রীর দাবি, প্রণয়ের সঙ্গে ভারতে তার স্ত্রী এবং সন্তানদের পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এ কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। তাদের সঙ্গে কোনো খারাপ সম্পর্ক ছিল না ।
শেরপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (আরএমও) খায়রুল কবির সুমন জানান, গতকাল রাতে ভারতীয় নাগরিক প্রণয়ের লাশ মর্গে আনা হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বলা যাবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক সোমবার রাতে বলেন, খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ রবিবার বিকেলে নিহতের ভাইয়ের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। তবে নিহতের পরিবার মামলা করতে চাইলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আকরামুল হোসেন পিপিএম জানান, মৃতের লাশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তার পরিবার মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




