ads

শনিবার , ১ জুন ২০২৪ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

কাশ্মীরে থানায় সেনা-পুলিশ সংঘর্ষ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুন ১, ২০২৪ ৫:১২ অপরাহ্ণ

৩ লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ ১৬ সেনার বিরুদ্ধে মামলা

ভারত শাসিত কাশ্মীরে স্থানীয় পুলিশকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কুপওয়ারা থানায় সেনাবাহিনীর ১৩ জন সদস্যকে নিয়ে তিনজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জবরদস্তি ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছিলেন। থানায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা আপত্তি জানালে সেনা সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হন। তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে থানায় ঢুকে খুনের চেষ্টা, ডাকাতি, ইউনিফর্ম পরিহিতি পুলিশ সদস্যদের মারধরসহ একাধিক মামলা রুজু করে পুলিশ।

Shamol Bangla Ads

এর আগে স্থানীয় পুলিশ সদস্য এক সেনা কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযান চালায়। সেই ঘটনারই কী বদলা নিতে সেনা সদস্যরা থানায় জোর করে ঢুকে পড়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন? কুপওয়ারা নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে একটি জেলা এবং এই শহরের আশেপাশে অনেক সেনা ক্যাম্প রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় সেনা সদস্যরা যখন সহিংসতা চালাচ্ছিলেন, তখনই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয় এবং তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। থানা থেকে সেনা সদস্যরা চলে যাওয়ার আগে ওসির ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং থানার এক সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে অবশ্য ওই সদস্যকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে কাশ্মীর উপত্যকায় মোতায়েন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৬ কোর ওই সংঘর্ষের ব্যাপারে যে এফআইআর দায়ের হয়েছে, সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর সেনাবাহিনী জানায়, সংঘর্ষের খবরটি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।

ভারতীয় সেনাবাহিনী এটাও বলেছে, সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে কাজের ব্যাপারে কিছু বিরোধ দেখা দিয়েছিল, যা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে সমাধান করা হয়েছে।

Shamol Bangla Ads

সংঘর্ষ এই প্রথম নয়
এই ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। গত ৩৫ বছরে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে এবং প্রতিবারই তদন্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দোষীরা শাস্তি পায় না।শ্রীনগরের বাসিন্দা আলি মুহম্মদ ওয়াতালি ১৯৮০ সালে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সিনিয়র সুপারিন্টেডেন্ট অব পুলিশ বা এসএসপি ছিলেন।সে বছরের ২৬ জুলাই শ্রীনগরের লাল চকে তার ওপর রড ও বন্দুকের বাট নিয়ে হামলা চালায় সেনা সদস্যরা।

আলি মুহাম্মদ ওয়াতালি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির সঙ্গে একটি অটোরিকশার সংঘর্ষ হলে সেনাবাহিনীর চালক পালিয়ে যায়। এরপর অটোচালকের মুখ বন্ধ রাখতে হট্টগোল শুরু করে সেনা সদস্যরা। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। রাস্তার মাঝখানে সেনাবাহিনীর একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল, তাতে কোনো চালক ছিল না। আমি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছিলাম। এরই মধ্যে সাইকেল আরোহী এক শিশুকে নির্দয়ভাবে পেটাতে শুরু করে সেনা সদস্যরা। আমি বাধা দিলে সেনা সদস্যরা রড ও বন্দুক দিয়ে আমার মাথায় ও মুখে আঘাত করে। আমি সেখানে দীর্ঘক্ষণ মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে ছিলাম।’

তার মুখের হাড় এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তিনি এখনো চিকিৎসা করাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, শ্রীনগরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র লাল চকে সেদিন যত গাড়ি পার্ক করা ছিল, সবগুলোতে সেনা সদস্যরা ভাঙচুর চালায়, নির্বিচারে গুলি চালায়। দুজন মারাও গিয়েছিলেন সেদিন। ঘটনার তদন্তের ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেখ মুহম্মদ আবদুল্লা। ওই তদন্ত কমিটিতে সেনাবাহিনীর কোর কমান্ডার, হাইকোর্টের বিচারপতি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। আলি মুহাম্মদ ওয়াতালি বলেন, ‘পরে সেনাবাহিনী একটি বিবৃতি দিয়ে বলে, আমি গণপিটুনিতে আহত হয়েছি। বিষয়টি সেখানেই থেমে যায়।’

ভারত শাসিত কাশ্মীরে ১৯৮০ সালে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু হয় এবং এর পরই সেনাবাহিনী শ্রীনগরের হজরতবাল এলাকায় এক যুবককে মেরে ফেলে দাবি করে, তারা একজন সশস্ত্র চরমপন্থীকে হত্যা করেছে। কিন্তু রিয়াজ রসুল নামের ওই যুবক আসলে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের কনস্টেবল ছিলেন।

ওই মৃত্যুর ফলে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশে বিদ্রোহ হয়ে যায়। উর্দিধারী পুলিশ সদস্যরা তাদের অস্ত্র শূন্যে তুলে ধরে শ্রীনগরে একটি মিছিল বের করেছিলেন। পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে ওই মিছিলটির ওপরে নজর রাখা হচ্ছিল। বেশ কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলতে থাকে এবং অবশেষে সেনাবাহিনী পুলিশ কন্ট্রোল রুমে প্রবেশ করে বিক্ষুব্ধ পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। পরে বেশ কয়েক ডজন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। বেশ কয়েক বছর আগে কাশ্মীরের কোলগাম ও গান্দরবাল জেলাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এ ছাড়া অমরনাথ যাত্রা চলাকালীন ২০০২ সালে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘সেনাবাহিনীর এক মেজর বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে জোর করে যাত্রীদের শিবিরে অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু শিবিরে অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ বলেছিল, সেনা সদস্যদের অস্ত্রগুলো বাইরে জমা রাখতে হবে। সে কথা না শুনে সেনা সদস্যরা পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। অনেক পুলিশ সদস্য মার খেয়ে বেশ কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সেনা ও পুলিশের মধ্যে কেন সংঘর্ষ হয়?
সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বাড়াবাড়ি নিয়ে অনেক বছর ধরে মামলা লড়া একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেছেন, সেনাবাহিনীকে সীমাহীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে আইনে, সেখানেই লুকিয়ে আছে পুলিশ আর সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের মূল কারণ। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরে আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আফস্পা) কার্যকর রয়েছে। সেখানে নিযুক্ত প্রত্যেকটি সেনা জানে যে কেউ তার ক্ষতি করতে পারবে না। এ কারণেই কোনো কোনো সময়ে নিজেদের স্বার্থে তারা সাধারণ মানুষ বা পুলিশকেও টার্গেট করে। কারণ তারা জানে, কোনো আদালত তাদের শাস্তি দিতে পারবে না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘এখানকার পুলিশ সদস্যরা এখনো নিজেদের সরকারি কর্মচারী মনে করেন। তারা আইন সম্পর্কে সচেতন। ইউনিফর্ম পরা একজন ব্যক্তির গায়ে হাত তোলার অর্থ কী, সেটাও তারা জানেন। কিন্তু সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায়ই দেখা গেছে যে তারা আইন সম্পর্কে সচেতন নন। আবার কোনো পরিস্থিতিতে এটাও দেখা যায় যে তাদের মধ্যে নিজেকে সেরা মনে করার একটা মানসিকতা রয়েছে।’
আইনজীবী, পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যান্য বিশ্লেষকরা একমত, কাশ্মীরে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা রক্ষার সমস্যার সমাধান না হলে দেশজুড়ে এর খারাপ প্রভাব পড়বে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা তো দেখতে পাচ্ছেন, ভারতের কোথাও সেনাবাহিনী ট্রেনে ছাত্রদের মারছে, কোথাও বাজারে মারামারি করছে আবার কখনো নিজের বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের পর দোষীদের শাস্তি দেওয়া আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

‘এসব ঘটনা পুলিশের মনোবল ভেঙে দেয়’
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক আহমেদ আলি ফায়াজের মতে, সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ কাশ্মীরিদের কাছে যত বড় সমস্যা, তার থেকেও অনেক বড় সমস্যা ভারত সরকারের জন্য। তিনি বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশই দেশের একমাত্র বাহিনী, যারা কয়েক দশক ধরে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করছে। যদি কোনো জায়গায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে দোষীদের শাস্তি হওয়াই উচিত। কারণ এই ধরণের ঘটনা জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের মনোবল কমিয়ে দেবে।’
কুপওয়ারার সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে আহমেদ আলি ফায়াজ বলেন, এ রকম একটা ঘটনায় ভারত সরকারের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তার কথায়, ‘দেখুন, আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত থানা ও সেখানকার ওসিও নিরাপদ নন। আমরা কিভাবে বলতে পারি যে সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত থাকবে এবং তাদের কোনো সমস্যা হবে না? এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ থানায় যাবে কী আশা নিয়ে?’

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!