৪ দিন পর দাফন হলো লাশ : গ্রেফতার নেই অন্য কোন আসামি
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক আব্দুল হালিম জীবনের (৪৮) চাঞ্চল্যকর মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেফতারসহ উপযুক্ত শাস্তির দাবি নিয়ে বাংলাদেশস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে যাচ্ছেন জীবনের প্রথম স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক জেসমিন আক্তার। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, জীবন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই সেখানে গিয়ে স্বামীর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চাইব। সেইসাথে সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশও যেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে- এমন আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

জেসমিন আক্তার জানান, তিনি স্বামী জীবনের লাশ উদ্ধারের খবর শুনে দেশে ফিরেছেন। স্বামীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে তার নিজের পরিবারের মনোমালিন্যের কথা তিনি শুনে আসছিলেন। জীবন দুই বছর যাবৎ দেশে অবস্থান করলেও মাঝখানে একবার যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে এসেছেন। প্রায় রাতেই তার সাথে ভিডিও কলে কথা হতো। কিন্ত দ্বিতীয় বিয়ের কথা তিনি জানতেন না। তিনি মঙ্গলবার রাতে দেশে ফেরেন এবং বুধবার দুপুরে জেলা সদর হাসপাতালের হিমাগারে থাকা জীবনের লাশ গ্রহণ করেন। এরপর উত্তর নওহাটা এলাকার বাসায় শেষবারের মত জীবনের মৃতদেহ নেওয়া হয়। পরে বিকেলে শহরের জেলা কারাগার মোড় সংলগ্ন ধানের খলায় জীবনের নামাজে জানাজা শেষে সন্ধ্যায় চাপাতলী পৌর করবস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। জীবন হত্যাকাণ্ডের সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রথম স্ত্রী জেসমিনের দাবির প্রেক্ষিতেই জীবনের লাশ জেলা সদর হাসপাতাল হিমাগারে রাখা হয়েছিল। লাশ গ্রহণকালে জীবনের দ্বিতীয় স্ত্রী আতিয়া আক্তার উপস্থিত থাকলেও জীবনের কোন স্বজনকে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে জীবনের লাশ উদ্ধারের পর দ্বিতীয় স্ত্রী আতিয়া আক্তারের দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ ও ২ নারীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হলেও ঘটনার ৫ দিন পর এখন পর্যন্ত নতুন করে আর কেউ গ্রেফতার হয়নি। তবে আদালতের নির্দেশে বুধবার থেকে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রউফ ও মোবারক মোস্তাককে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আতিয়া আক্তার জানান, মামলার ৫ দিন পরও জীবন হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তার দাবি, জীবনের লাশ উদ্ধারের পরপরই সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফসহ তার ঘনিষ্ঠ ৩ বন্ধুর নাম বলেছিলাম পুলিশকে। তারা যে জীবনকে শায়েস্তা করার জন্য তার পেছনে লেগেছিল, বেঁচে থাকা অবস্থায় জীবন তাকে বারবার বলেছে এবং তাদের চেহারা চিনিয়েও দিয়েছে। আমার বিশ্বাস, রউফের সাথে তারা মিলে মিশেই জীবনকে হত্যা করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের এসআই সাইফুল মালেক জানান, ওই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত ৬ জনের মধ্যে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২ জনকে পুলিশ রিমাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এছাড়া ঘটনার সময়কালে ধস্তাধস্তিতে আহত মো. কালু মিয়াকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ওই বিষয়ে এ চাঞ্চল্যকর মামলার তদারকির দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. খোরশেদ আলম জানান, দ্বৈত নাগরিক জীবন হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সাথেও যোগাযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩০ মার্চ রাতে সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চল চুনিয়ারচর এলাকা থেকে জীবনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যারহস্য উদঘাটন করে এবং ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওইসময় পুলিশ জানায়, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারকৃত ৬ জনসহ অন্তত ৯ জনের জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।




