জমে ওঠেছে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ। মাঠ দখলে নিতে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের তোড়জোড়। প্রথম ধাপে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ইফতার মাহফিল, পাড়া-মহল্লা আর বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন প্রার্থীরা। এবার দলীয় প্রতীক না থাকার সিদ্ধান্তে বেড়েছে প্রার্থীদের সংখ্যা। কেউ অংক কষছেন ভৌগোলিকভাবে আঞ্চলিকতার। কেউবা দফায় দফায় সভা সমাবেশ করে ইউনিয়ন থেকে একক প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। জানান দিচ্ছেন নিজের পরিচিতি আর অবস্থান। কেউবা পোষ্টার আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেই সীমাবদ্ধ। শোনা যাচ্ছে চেয়ারম্যান পদে প্রায় হাফ ডজন প্রার্থীর নাম। তবে বিএনপির প্রার্থী না থাকলেও রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী। শোরগোল হচ্ছে পাড়া-মহল্লা আর চায়ের স্টলে। অনেকে বলছেন, এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মুখোমুখি জামায়াতের একক প্রার্থী। ২ এপ্রিল মঙ্গলবার সরেজমিন গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে ওঠে আসে এমন তথ্য।

নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন রানীশিমুল ইউনিয়নের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান সুজা, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা খন্দকার মোঃ ফারুক আহমেদ, কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছালাহ উদ্দিন ছালেম, তাতিহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা সাবেক উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক মো, জাহিদুল ইসলাম জুয়েল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জুয়েল আকন্দ, গোশাইপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এমএ মতিন, কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম ভাসানী এবং পৌরসভার বাসিন্দা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ও শ্রীবরদী আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান বাদল।
এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা দীর্ঘ থাকলেও তফসিলের পর তেমন কোনো সাড়া নেই।
ভোটের মাঠে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ নিয়ে কথা হয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান সুজার ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো, মিজানুর রহমান রাজার সাথে। তিনি বলেন, আমরা রানীশিমুল ইউনিয়ন থেকে একক প্রার্থী করতে সভা সমাবেশ করছি। আলোচনা চলছে। এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ অনেকে জানান, দলীয় প্রতীক না থাকলেও দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা এখন লবিং গ্রুপিংয়ে ব্যস্ত। গণসংযোগ ও সভা সমাবেশ হচ্ছে। এতে সিনিয়র নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিয়েও প্রার্থীদের মধ্যে চলছে টানা পোড়েন। অনেকে বলছেন, এবারের নির্বাচনে অনেকটাই প্রভাব ফেলতে পারে ভৌগলিক অবস্থান। উঠতে পারে আঞ্চলিকতার টান। কেউ বলছেন, এখন যে বেশি মাঠ দখল করতে পারবে তার পক্ষে উঠতে পারে গণজোয়ার। এসব তর্ক-বিতর্ক আলোচনা আর সমালোচনার ঝড় ওঠছে চায়ের স্টলসহ আড্ডার স্থানগুলোতে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রায় হাফ ডজন। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মুখোমুখি হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর একক প্রর্থী নুরুজ্জামান বাদল। তিনি ২০১৪ সালে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে অনেকটাই আলোচনায় এসেছিলেন। তবে অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মতে, বিগত নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাহিদুল ইসলাম জুয়েল। এবার একই অঞ্চলের হাফ ডজন প্রার্থী থাকায় অনেকটাই হিমসিম খেতে হচ্ছে তাকে।
শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা জানান, শ্রীবরদীর কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নে একক প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম ভাসানী। তার আশেপাশে আরও তিনটি ইউনিয়নে নেই কোনো প্রার্থী। যদি আঞ্চলিকতার টান ওঠে তাহলে ফ্যাক্টর হতে পারেন ক্লিন ইমেজের এই প্রার্থী। এমন আলোচনা আর সমালোচনায় জমে ওঠেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। বইছে নির্বাচনী হাওয়া।




