প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল মঙ্গলবার পদ্মা সেতুতে অনুষ্ঠানিকভাবে রেল চলাচলের উদ্বোধন করবেন। এদিন তিনি রাজধানীর ঢাকার কমলাপুর থেকে ট্রেনে করে ভাঙ্গায় আসবেন। পরে ভাঙ্গার কাজী ইউসুফ স্টেডিয়াম মাঠে জনসভায় অংশ নেবেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল ডা. কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামসহ গোটা এলাকায় ২ লক্ষাধিক জনসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়ছে।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কে শোভা পাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও ডিজিটাল ডিসপ্লে। সবকিছুতে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগনমনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। এ ছাড়া ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগও সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্তপুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমদাদ হোসাইন জানান, সরকারপ্রধানের জনসভাস্থল ও ভাঙ্গা রেল জংশন এলাকায় চার স্তরে ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত থাকবে। তিনি বলেন, পুলিশ ও সরকারের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাবের বিভিন্ন টিম শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহলরত অবস্থায় থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলসহ জংশন এলাকা ইতোমধ্যে নিরাপত্তা চাদরে ঘিরে ফেলা হয়েছে। আইশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নিয়োজিত থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি সভা, প্রচারণা, মিছিল ও লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের সকল ইউনিটের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াক আরিফ জানান, ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আমরা দিনরাত জনসভা সফল করতে নিরলস কাজ করেছি। আমাদের লক্ষ্য জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ২ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানো। তিনি বলেন, নৌকার আদলে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলের মঞ্চ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।

ভাঙ্গা রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. শাহজাহান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথ বাণিজ্যিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৮২ কিলোমিটার রেলপথ চালু হচ্ছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়ারুল ইসলাম জানান, সদরদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী এবং পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ভাঙ্গা থানা পুলিশ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ সোচ্চার রয়েছে।
ভাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিম উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা গ্রহণ হয়েছে। সব প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।




