জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাময়িক বরখাস্ত চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ২৩ জুন শুক্রবার বিকেলে তাকে জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে তোলা হলে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা ডিবি পুলিশের ওসি আরমান আলী ও বাদীপক্ষের আইনজীবী ইউসুফ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

জানা গেছে, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। একই মামলায় বৃহস্পতিবার জামালপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদের আদালতে রেজাউল করিম ও মমিনুল ইসলাম নামে দুই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
সাংবাদিক নাদিম হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হলে বিভিন্ন মেয়াদে ১৮ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুক্রবার পর্যন্ত রিমান্ড শেষ হলে আদালতের নির্দেশে সব আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইউসুফ আলী জানান, ১৩ আসামিকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি চেয়ারম্যানপুত্র ফাহিম ফয়সাল রিফাতকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিক নাদিম পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে নিজ বাসায় ফেরার পথে পৌর শহরের কাচারি পাড়ায় পাটহাটি পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। ওই রাতে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১৫ জুন বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসি ফুটেজ দেখে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর সম্পৃক্ততা ওঠে আসে।




