শেরপুরে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে সিজেএম এসএম হুমায়ুন কবীর
আদালতে মামলাজট কমাতে মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন শেরপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) এসএম হুমায়ুন কবীর। ১১ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্যে ওই গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

কনফারেন্সে সিজেএম বলেন, থানায় ও আদালতে মিথ্যা মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে আইনে শাস্তির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু এক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ খুব একটা লক্ষ্যণীয় নয় বলেই মিথ্যা মামলা দায়ের বন্ধ হচ্ছে না। অথচ শাস্তির ব্যবস্থা নিলেই একদিকে যেমন মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা কমবে, অন্যদিকে কমবে মানুষের দুর্ভোগ। তাই মামলাজট কমাতে মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে নিতে হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এজন্য তিনি বিচারক ও তদন্ত কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর উপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য বিচারক রয়েছেন মাত্র ১৮শ জন, যা কোন একটি উপজেলায় কর্মরত শিক্ষকদের সমষ্টির সমান। তথাপি ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সারাদেশে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮২২টি। কিন্তু এরপরও দেশে বিপুল পরিমাণ মামলা জট রয়েছে। অল্পসংখ্যক বিচারক সেই মামলাজট কমাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, পুলিশ কর্তৃক সময়মতো আদালতে সাক্ষী হাজির, ওয়ারেন্ট তামিল, সঠিক তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। বিচারক ও আইনজীবীদেরকেও অধিক আন্তরিক হয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব্ পালন করতে হবে। তিনি পুলিশের পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার পাশাপাশি জনগণের প্রতি সুশীল আচরণ করার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, তাদের ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’ নিশ্চিত করতে হবে। রিমাণ্ডের বিষয়ে আইন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের অগ্রগতি বিষয়ে মতামতও যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। এজন্য প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিচারকদেরও বেতন-ভাতা এমনভাবে বাড়ানো হয়েছে, যাতে তারা হালাল উপার্জনের মাধ্যমেই সঠিকচাবে চলতে পারেন। এজন্য তিনি বিচারকদের মানসিক উন্নতি গড়ে তোলার পাশাপাশি কলুষমুক্ত থাকার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একটি ন্যায় বিচারে ৭০ বছর ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে ভালোবেসে যথাসম্ভব দ্রুত ন্যায় বিচারিক সেবা দেওয়ার আহবান জানান তিনি।
কনফারেন্সে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সুলতান মাহমুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া, দায়রা আদালতের পিপি এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল, স্পেশাল পিপি এ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারিন ফারজানা ও শরিফুল ইসলাম খান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম ভাসানী, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি এনডিসি সাদিক আল সাফিন, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ কামাল কেয়া, জেলা কারাগারের জেলার তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।




