শেরপুরে বিনা উদ্ভাবিত স্বল্পজীবনকালীন ও উচ্চ ফলনশীল আমন ধানের জাত প্রচার ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ নভেম্বর সোমবার বিকেলে উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া বাজারীপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিউট (বিনা) এর আয়োজনে ওই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিনা ময়মনসিংহের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম।

বিনা নালিতাবাড়ী উপকেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুল আলম তরফদার সভাপতিত্বে মাঠ দিবসের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা খামারবাড়ির উপ-পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. সুলতান আহমেদ, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. রুবাইয়া ইয়াসমিন ও খামার ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ শফিকুজ্জামান। বিনা নালিতাবাড়ীর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফ হোসেন, স্থানীয় কৃষক গোলাপ হোসেন, সুলতান মিয়া প্রমুখ।
মাঠ দিবসে বক্তারা বলেন, বিনা-১৭ জাতের উচ্চফলনশীল ধান স্বল্পজীবনকালীন হওয়ায় কৃষকরা অন্যান্য ধানের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে এই ফসল ঘরে তুলতে পারছেন। এতে তারা বোরো আবাদের আগে সরিষা বা আলু চাষ করতে পারবেন। সেইসাথে বছরজুড়ে কৃষকরা তাদের জমিতে তিন ফসলের আবাদ করতে পারবেন এবং লাভবান হবেন। ফলে কৃষকরাও এই জাতের ধান আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের তরফ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া এই জাতের ধানের আবাদ থেকে পরবর্তী আবাদের জন্য বীজ রাখা যায়। ফলে কৃষকদের বাড়তি টাকায় বীজধান কিনতে হচ্ছে না।

বিনা নালিতাবাড়ী উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুল আলম তরফদার জানান, শেরপুরে এবার বিনা উপকেন্দ্রের মাধ্যমে ২৫ জন কৃষকের মাধ্যম বিনাধান-১৭ প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বিনাধান-১৭ আবাদ হয়েছে। স্বল্পমেয়াদী, খরসহিষ্ণু এবং সার ও উৎপাদন খরচ কম লাগায় উচ্চ ফলনশীল দিন দিন বিনাধান-১৭ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
বিনা-১৭ জাতের ধান আবাদ করা কৃষক সুলতান হোসেন জানান, তিনি এ বছর বিনা-১৭ ধান আবাদ করেছেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। অন্য ক্ষেতের আগেই তার ক্ষেতের ধান পেকে যাওয়ায় আগেভাগেই কেটে ফেলতে পারবেন এবং সরিষার আবাদ করতে পারবেন।




