মুজিব বর্ষ উপলক্ষে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার দেওয়া দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি। আগামী ২০ জুন প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ঘরগুলোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভিডিও কনফারেন্সে সরাসরি সংযুক্ত হতে যাচ্ছে এ উপজেলার হলদিগ্রাম এলাকায় সরকারি খাস জমিতে নির্মিত ঘরের উপকারভোগীরা। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ওইসব ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে ঘরগুলো হস্তান্তরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব প্রকল্প স্থান পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এর আগে এ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে এ উপজেলায় বাড়ি উপহার পেয়েছে আরও ৫০টি ভূমিহীন পরিবার।

জানা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দ্বিতীয় ধাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে নতুন ঘর গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে দেয়া হচ্ছে। ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, রিকশাচালক, দিনমজুর, বিধবা, কাজের মহিলাসহ আরও ২৫টি গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন জমিসহ সেমি পাকা ঘর। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুই শতাংশ জমির মালিকানাসহ দুই কক্ষবিশিষ্ট নির্দিষ্ট ডিজাইন ও সুদৃশ্য রঙিন টিনশেডের দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পাচ্ছেন উপকারভোগীরা। এতে থাকছে বারান্দা, রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেটসহ অন্যান্য সুবিধা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদের তত্ত্বাবধানে নলকুড়া ইউনিয়নের হলদিগ্রামে সরকারি খাস জমিতে এবার নির্মিত প্রতিটি ঘরে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। জনপ্রতিনিধি, ভূমি এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কর্মকর্তার কার্যালয়ের সমন্বয়ে তৈরি করা ওইসব ঘর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা ভূমিহীন এবং গৃহহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়ার কাজ শেষ করা হয়েছে। এর আগে হলদিগ্রামের এ স্থানেই প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৫টি ঘর উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতি পরিবারের জন্য দুই শতক জমির ওপর দুটি চৌচালা বিশিষ্ট রঙিন ঢেউ টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরটিতে দুটি করে জানালা ও দরজা, ইটের দেয়াল এবং পাকা মেঝে রয়েছে। এ ছাড়া বারান্দা এবং রান্না ঘর ও টয়লেট সেইসঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানির সুব্যবস্থা রয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউএনও রুবেল মাহমুদ বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসহায় পরিবারের জন্য উপহারস্বরূপ এসব স্বপ্ননীড় তৈরি করে দিচ্ছেন। সরকারের ওই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, অসহায় মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং কোনো মানুষ যেন বাসগৃহ ছাড়া না থাকেন।




