শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ শেরপুরের শ্রীবরদীতে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ৬ ছাত্রী আহত হয়েছে। ৬ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে শ্রীবরদী এমএনবিপি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ওই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হচ্ছে ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ও স্থানীয় খামারিয়াপাড়া এলাকার রুকুনুজ্জামান ওরফে শিপনের মেয়ে রওনক জাহান বুশরা, খোকন চৌধুরীর মেয়ে শাউলিয়া জাহান সুরমি ও সাতানী শ্রীবরদী এলাকার আব্দুল করিমের মেয়ে সোহানা ইসলাম স্মৃতি। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নূর ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা যায়, সম্প্রতি শ্রীবরদী এমএনবিপি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাথে সহকারী শিক্ষক নুর ইসলাম শ্রেণিকক্ষে সঠিকভাবে পাঠদান না করিয়ে গল্প করেন। এক পর্যায়ে পাঠদানের সময় তিনি ছাত্রীদের সাথে অশালীন কথা-বার্তা বলেন। ওই বিষয় নিয়ে ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষকের কাছে মৌখিকভাবে বিচার দিলে নুর ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে ক্লাস চলাকালীন সময়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রীদের উপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে তার বেত্রাঘাতে ৬ জন ছাত্রী গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ওইসময় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। ওই ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষিপ্ত হলে পুলিশ শিক্ষক নুর ইসলামকে আটক করে।

ওই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সীমা আক্তার জানায়, ওই শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় আমাদের সাথে অশালীন কথাবার্তা বলেন এবং সঠিকভাবে পাঠদান না দিয়ে গল্প করেন। এ নিয়ে আমরা প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার দেওয়ায় নুর ইসলাম স্যার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদেরকে মারপিট করেন।
অভিভাবক রুকুনজ্জামান শিপন বলেন, শিক্ষার্থীরা নূর ইসলাম স্যারের নামে প্রধান শিক্ষকের নিকট বিচার দিলে শিক্ষক নূর ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মেয়েসহ একাধিক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে অজ্ঞান করে ফেলে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
শ্রীবরদী এমএনবিপি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, একদিন পূর্বে শিক্ষার্থীরা আমার নিকট মৌখিকভাবে বিচার দিয়েছিল। আমি তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলি। অন্যদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক নূর ইসলাম বলেন, ক্লাসে একই পড়া বারবার দেওয়ার পরও পড়া না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদেরকে স্কেল দিয়ে দুটি করে বারি দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের অশালীন ভাষায় কথা বলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি শারীরিক শাসন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপরও কোন কোন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ না মানার ঘটনা দুঃখজনক। তবে এমএনবিপি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মারপিটের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষক নূর ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।





