ads

সোমবার , ৬ জুন ২০১৬ | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ঝিনাইগাতীতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো

শ্যামলবাংলা ডেস্ক - ফটো কার্ড
জুন ৬, ২০১৬ ২:৩৪ অপরাহ্ণ

sherpur 3ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইগাতী উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষকতার চেয়ে বাণিজ্যিক বিষয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন। অনেক শিক্ষকরা সরকারী বেতন-ভাতা ভোগ করে আসলেও তারা চাকরী নানা করে ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকায় বিদ্যালয়ের খোঁজ-খঁবর নিচ্ছেন না। সার্বক্ষণিক তারা রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সময় কাটাচ্ছেন। ফলে এ উপজেলায় শিক্ষা ব্যবস্থা বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কলেজ রয়েছে ৪ টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৭টি এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬টি। দাখিল মাদ্রাসা ১৩টি এবং সিনিয়র মাদ্রাসা ১টি। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানে ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে ইচ্ছা মাফিক আসেন আবার চলে যান। ফলে শিক্ষার্থীরা কোচিং নির্ভর হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষক কর্মস্থলের চেয়ে কোচিং বাণিজ্যে সময় দিচ্ছেন বেশি। জানা যায়, কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা স্কুল চলাকালিন সময়ে কোচিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জামায়াতনির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। মামলা-হামলার ভয়ে কেউ কেউ আবার আত্ম গোপনেও রয়েছেন। এছাড়া ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষকরা মাসের পর মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন না। অথচ হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন তারা। এসব প্রতিষ্ঠানে এসএসসি/এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়, উপবৃত্তির টাকা বিতরণে অনিয়ম ও টাকার বিনিময়ে দেয়া হয় অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতা মূলক করা হলেও নেয়া হচ্ছে না কম্পিউটার ক্লাস। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার গুলো বিদ্যালয় প্রধানরা পারিবারিক কাজে ব্যবহার করে আসছেন। প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেই একাডেমিক ভবণ নেই, বিদ্যালয় চত্বরে নেই শহিদ মিনার, রয়েছে আসবাবপত্রের সংকট, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ নেই, নেই নলকুপ, শৌচাগার গুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫/৭ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নিয়ে ভূয়া নিবন্ধনে দেয়া হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন কাজ হচ্ছে না বলে এমন অভিযোগও রয়েছে। অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ নানা কারসাজিতে ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে নিজস্ব লোকদের নির্বাচিত করে দিনের পর দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুষ, দুর্নীতিসহ রামরাজত্ব কায়েম করে চলেছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের পদসহ নানা বিষয়ে আধিপত্য বিস্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা-মোকাদ্দমায় জর্জরিত অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক আছে শিক্ষার্থী নেই। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা প্রতিষ্ঠানকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সেলিম রেজা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁরা যৌথভাবে ইতিমধ্যেই কর্মকান্ড শুরু করেছেন।

Need Ads