স্টাফ রিপোর্টার : হাতি-মানুষে দ্বন্দ্ব নিরসন করে সহাবস্থানের মাধ্যমে প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় শেরপুরের সীমান্তবতী অঞ্চলে স্থানীয় অধিবাসীদের নিয়ে ‘ইআরটি’ বা ‘হাতি সুরক্ষা দল’ গঠন করা হয়েছে। এ হাতি সুরক্ষা দল স্থানীয় জনগণের মাঝে বন্যহাতি সুরক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির সাথে সাথে লোকালয়ে নেমে আসা বন্যহাতিকে ফের নিরাপদে বনে ফিরে যেতে সহায়তা করবে। এতে বন্য হাতি সুরক্ষা সহজ হবে এবং বন্যহাতিগুলো বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী এলাকার বনরানী রিসোর্টে ১৮ এপ্রিল সোমবার এমন দু’টি ‘ইআরটি’ বা ‘হাতি সুরক্ষা দল’কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ‘স্ট্রেনদেনিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর ওয়াইল্ড লাইফ’ প্রজেক্টের সহায়তায় বনবিভাগ ও আইইউসিএন এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। দিনভর অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে বন্যপ্রাণী আইন, প্রাণবৈচিত্র্য আইন, বন্যহাতির আচরণ ও হাতি তাড়ানোর কৌশল, নেতৃত্ব ও দলগত একতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের অবহিত করা হয়। এতে প্রশিক্ষক ছিলেন-আইইউসিএন সহকারী বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ জুবায়ের হোসেন ফাহাদ, সাইট ম্যানেজার রাজিব মাহমুদ, মিজানুর রহমান, গজনী বীট কর্মকর্তা আব্দুর রফিক। প্রশিক্ষণে বাঘারচর ও গজনী এলাকার দু’টি ইআরটি দলের ২০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। পরে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে বন্যহাতি তাড়ানোর কাজে সহায়তার জন্য পোষাক, হ্যান্ডমাইক, সার্চলাইট, টর্চ, জুতা, বাঁশিসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী বিতরন করা হয়।
আইইউসিএ সাইট ম্যানেজার রাজিব মাহমুদ ও মিজানুর রহমান জানান, শেরপুর ও জামালপুর জেলার ভারত সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদে বন্য হাতি সুরক্ষায় ২৩টি ইআরটি দল গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাহাড়ে বন্যহাতির জন্য খাবার সংস্থানের বাগান করা হয়েছে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ নাই সেসব এলাকায় ২৪ সেট সোলার প্যানেল দেওয়া হবে এবং ১৬ টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে, যাতে বন্যহাতির লোকালয়ে নেমে আসার আগাম সংবাদ পেয়ে মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।




