শ্যামলবাংলা ডেস্ক : আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই দিয়ে টাকার অপচয় হচ্ছে না। এটা একটা বিনিয়োগ, শিক্ষার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। ২০০৯ এ সরকার গঠনের পর ২০১০ এ আমরা বই দিলাম। সেই বই দেয়ার পথে কী যে বাধা- বিজি প্রেসে বই ছাপার কাগজে আগুন দেয়া হলো। ঢাকার আশপাশের যত দমকল বাহিনী ছিল তাদের দিয়ে আগুন নেভাতে ৩ দিন লেগেছিল। তারপরও ১ জানুয়ারি সমস্ত শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিয়েছি। তিনি ২২ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওইসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সে দিন একটি কাগজে পড়লাম, এক বিজ্ঞ জন লিখেছেন, প্রতি বছর নতুন বই দিয়ে কী টাকার অপচয় হচ্ছে না? এমন তীর্যক প্রশ্ন রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, তাকে আমি বলব, গ্রামে যান, নতুন বই নিয়ে একটি ছাত্র যখন গন্ধ শুকে এবং তার মুখে যে তৃপ্তিটা থাকে, পড়ার জন্য যে আগ্রহ জন্মে একবার গিয়ে দেখে আসেন। তাহলেই বুঝবেন এটা অপচয় নয়, এটা বিনিয়োগ, শিক্ষার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ।
মতিয়া চৌধুরী আরও বলেন, বিদ্যালয় আলো দেয়, আলো জ্বালায়, সেই আলোতে কেউ পুড়ে না। সেই আলোতে মানুষ উজ্জল হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাংলার মানুষ যেন ক্ষুধায় অন্ন পায়, পরনে বস্ত্র পায়, রোগে চিকিৎসা পায়, মাথা গুজার ঠাঁই পায়, একই সঙ্গে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাবার সেই অসমাপ্ত স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য শিক্ষার ওপর যে গুরুত্ব দিয়েছেন, এই গুরুত্ব ইতিপূর্বে কেউই দেয়নি। এটি আমরা বিনয়ের সঙ্গে দাবি করছি। অহংকার করছি না, গর্ববোধ করছি। কেননা, গত ১ জানুয়ারি দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যে বই দেয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মোহসীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিল চন্দ্র সরকার, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন দুলাল, আওয়ামী লীগ নেতা আতাউল্লাহ মণ্ডল, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।




