স্টাফ রিপোর্টার : যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের লাশ পরিবারকে না দিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় গোপনে দাফন করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শেরপুরের মুক্তিযোদ্ধারা। ১৫ নবেম্বর রবিবার দুুপরে জেলা প্রশাসক ডাঃ এ এম পারভেজ রহিমের কাছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নূরল ইসলাম হিরুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ওই স্মারকলিপি প্রদান করেন। ওইসময় শেরপুর চেম্বার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. মাসুদ, ডেপুটি কমান্ডার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন সুরুজ, জিন্নত আলী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদ অদু, এডভোকেট প্রদীপ দে কৃষ্ণ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধাপরাধে দন্ডপ্রাপ্ত কসাই কাদের মোল্লাকে দাফনের পর ওই নরঘাতককে শহীদ হিসেবে ঘোষণা করে পাকা কবরের দেয়ালে তার নামে এপিটাফট স্থাপন করা হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধারা সেটি ভেঙ্গে ফেলে। কামারুজ্জামানের ফাঁসির পর সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে শেরপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের বাধার মুখে তা পন্ড হয়ে যায়। একই সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, যুদ্ধের পর নাজি যুদ্ধাপরাধীদের কবর যাতে ভবিষ্যতে কেউ শহীদ সমাধি ক্ষেত্র বানাতে না পারে, সেজন্য অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে মিত্রশক্তির ব্যবস্থাপনায় তাদের কবর দেওয়া হয়। জার্মানির কোন মানুষ আজ পর্যন্ত জানে না তাদের কবর কোথায়। ২০১৩ সালে এরিখ প্রাইবেক নামে ১০০ বছর বয়সী নাজি যুদ্ধাপরাধী ইতালীতে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ভোগরত অবস্থায় মারা গেলে জনতার ক্ষোভের মুখে প্রথমে ইতালি পরে আর্জেন্টিনা ও জার্মানীতেও তার লাশ দাফন করতে দেওয়া হয়নি। তাকে কোথায় দাফন করা হয়েছে আজও কেউ জানে না। এমনকি সর্বশেষ একই কারণে ওসামা বিন লাদেনের লাশ কয়েক টন পাথর বেঁধে সাগরে ফেলে দেয় আমেরিকা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নূরল ইসলাম হিরু বলেন, বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী না হলে বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধের বিচার হতো না। তিনি বলেন, আজ থেকে ২০-২৫ বছর পর যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকে, তাহলে ঘাতকের দল ও তাদের সমর্থকরা আবারও তাদের কবরকে শহীদ সমাধি বানাবে। তাই ৩০ লাখ মানুষের হত্যাকারী, ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জত লুন্ঠনকারী, ইসলামের শত্রু মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের লাশ যাতে গোপনে দাফন করা হয়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশাবাদী।




